রাতের আঁধারে খালে অবৈধ বাঁধ
বুড়িচংয়ে জলাবদ্ধতার শঙ্কায় দিশেহারা কৃষক
Printed Edition
কাজী খোরশেদ আলম, বুড়িচং (কুমিল্লা)
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ খালের মাঝখানে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে খালটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ নিয়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
সরেজমিন জানা গেছে, উপজেলার একটি জলাশয়ের ওপর দিয়ে প্রবাহিত খালটির বাকশিমুল ও যদুপুর গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র গোপনে এ কাজ করেছে। একই সাথে তারা জলাশয়সংলগ্ন ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, খালটি ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। খালের মাঝখানে বাঁধ দেয়ায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে উজানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এতে পানি জমে থেকে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আসন্ন মৌসুমে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।যদুপুর গ্রামের কৃষক মোতালেব হোসেন বলেন, ‘এই খাল দিয়েই এলাকার পানি নেমে যায়। এখন বাঁধ দেয়ায় পানি আটকে থাকবে। এতে আমাদের জমির ফসল পানিতে ডুবে যাবে। আমরা দ্রুত এই বাঁধ অপসারণ চাই।’
এদিকে, বাঁধ নির্মাণে জড়িতদের বাধা দিতে গেলে স্থানীয়দের হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাম্মৎ আফরিনা আক্তার বলেন, ‘খালে বাঁধ দেয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। এতে উজানে জলাবদ্ধতা এবং ভাটিতে পানির সঙ্কট তৈরি হবে, যা ফসলি জমির জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’ তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, খালে অবৈধভাবে বাঁধ দেয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকার যেখানে খাল খনন ও পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে, সেখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।