৭৪ কোটি টাকার যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ কিনছে সরকার
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
যক্ষ্মা রোগে আক্রান্তদের সেবা দিতে ১০ কোটি ৬৯ লাখ ৮০ হাজার ‘অ্যান্টি-টিবি ড্রাগস ২এফডিসি’ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৭৪ কোটি ৩৫ লাখ ১১ হাজার টাকা। দরপত্রে অংশ নিয়ে মেসার্স রেনেটা পিএলসি এই প্রতিষেধক সরবরাহ করবে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটিতে অনুমোদন দিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় কমিটির সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় একই সাথে অনুমোদন দেয়া হয়েছে ১০১ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের কাস্টমস হাউসের উন্নয়ন, সারের জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯ কোটি টাকা। এ ছাড়াও ৩৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই কোটি লিটার পামঅলিন তেল ক্রয়ও অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ই-জিপিতে দরপত্রে বিপরীতে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ব্যবহৃত অহঃর-ঞই উৎঁমং ২ঋউঈ ট ট্যাবলেট ১০ কোটি ৬৯ লাখ ৮০ হাজার প্রতিষেধক ক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ইজিপিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে একটি দরপত্র জমা পড়ে। দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি একমাত্র দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স রেনেটা পিএলসির কাছ থেকে ১০ কোটি ৬৯ লাখ ৮০ হাজার অ্যান্টি-টিবি ড্রাগস ২এফডিসি ট্যাবলেট ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেয়া। এতে সর্বমোট ব্যয় হবে ৭৪ কোটি ৩৫ লাখ ১১ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থে এই ট্যাবলেট কেনা হবে। প্রতিটি ট্যাবলেটের একক মূল্য ৬.৯৫ টাকা।
এ ছাড়াও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে দুই কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন তেল ক্রয়ের একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৩৬৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি লিটার পাম অলিনের দাম পড়বে ১৮৪.৪৫ টাকা। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ভোজ্য তেল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৩ কোটি লিটার। এ পর্যন্ত ক্রয় চুক্তি হয়েছে ছয় কোটি ৬০ লাখ ৫৩ হাজার ৭৭৮ লিটার
‘কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ‘কনস্ট্রাকশন অব রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিংস অব কাস্টমস হাউজ, চট্টগ্রাম প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি। এতে ব্যয় হবে ১০২ কোটি ৪১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৪৩ টাকা। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক ঋণে প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) “সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ (১ম সংশোধিত)” প্রকল্পের আওতায় (প্যাকেজ-৫, লট-৫) রংপুর জেলায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার একটি সাইটে গুদাম নির্মাণ কাজের ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৫৯ কোটি ২০ লাখ ৭৯ হাজার ৫২০ টাকা।