নলডাঙ্গায় সাইলেন্ট কিলার পার্থেনিয়ামের বিস্তার
Printed Edition
নলডাঙ্গা (নাটোর) সংবাদদাতা
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত পার্থেনিয়াম উদ্ভিদ, যা ‘সাইলেন্ট কিলার’ নামে পরিচিত। কৃষি জমি, রাস্তার পাশ, রেললাইনসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্তার ঘটানো এ আগাছা মানবস্বাস্থ্য, গবাদিপশু ও ফসল উৎপাদনের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেখতে অনেকটা ধনে গাছের মতো এই উদ্ভিদটির পাতাগুলো চিকন এবং ছোট সাদা ফুলে ভরা। উচ্চতা সাধারণত দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। আকর্ষণীয় চেহারার হলেও এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর উদ্ভিদ। কোনো বিশেষ যতœ ছাড়াই দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে এবং প্রতিকূল পরিবেশেও সহজে টিকে থাকে এই আগাছা। উঁচু-নিচু প্রায় সব ধরনের মাটিতেই জন্মায় পার্থেনিয়াম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্র বীজের কারণে গরুর গোবর, সেচের পানি ও বাতাসের মাধ্যমে সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে এই আগাছা। কয়েক বছর ধরে পতিত জমি ছাড়িয়ে এখন কৃষি জমিতেও ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে এটি। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখা গেছে, ফসলের ক্ষেত, রাস্তার ধারে এবং রেললাইনের পাশে ঝোপ আকারে ছড়িয়ে আছে পার্থেনিয়াম।
কৃষকরা জানান, একবার জমিতে এ আগাছা জন্মালে তা দমন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। যতবারই নিধন করা হয়, ফসলের চারার সাথে আবারো নতুন করে গজিয়ে ওঠে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: জুনাইদ হোসেন লেলীন বলেন, ‘পার্থেনিয়াম অত্যন্ত বিষাক্ত উদ্ভিদ। এর সংস্পর্শে এলে ত্বকে চুলকানি, লালচে ফুসকুড়ি, এমনকি অ্যালার্জিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর, তীব্র মাথাব্যথাসহ নানা শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়।’
গবাদিপশুর ক্ষেত্রেও এ উদ্ভিদের প্রভাব মারাত্মক। উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা: পারভেজ আহমদ জানান, ‘চারণভূমিতে পার্থেনিয়ামের সংস্পর্শ্বে এলে গবাদি পশুর চামড়ার উপরিভাগ ফুলে যাওয়া, জ্বর ও বদহজমসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। আর যদি পশু এই আগাছা বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলে, তা হলে বিষক্রিয়ায় মৃত্যুও হতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: সবুজ আলী জানান, পার্থেনিয়াম গুল্ম জাতীয় একবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এর মধ্যে ‘পার্থেনিয়াম হিস্টেরোফোরাস’ প্রজাতিটি সবচেয়ে বিষাক্ত এবং বাংলাদেশে এটির উপস্থিতি বেশি। এতে থাকা বিষাক্ত উপাদান গবাদি পশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তিনি আরো জানান, পার্থেনিয়ামের বিস্তার রোধে কৃষকদের সচেতন করতে ইতোমধ্যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যেসব এলাকায় এ আগাছা দেখা যাচ্ছে, সেগুলো দ্রুত শনাক্ত করে নিধনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।