পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষা ফের শুরু

কেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগ আসনই ফাঁকা : উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দীর্ঘ বিরতির পর গতকাল বুধবার শুরু হয়েছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। পুনরায় শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় উপস্থিতির চিত্র আশানুরূপ নয়। কোথাও অর্ধেক, কোথাও তারও বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দেরিতে পরীক্ষার আয়োজন, প্রস্তুতির ঘাটতি ও ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে ক্লাস চলতে থাকার কারণে এ পরীক্ষায় উপস্থিতি এতটা কম।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী গতকাল ১৫ এপ্রিল বাংলা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে আড়াই ঘণ্টা ধরে চলবে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে জাতীয়ভাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আবারো মেধা যাচাইয়ের এই প্রাচীন ও জনপ্রিয় পদ্ধতিটি চালু হওয়ায় মেধাবীদের উৎসাহ প্রদানের ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ অফিস জানায়, জেলার গৌরীপুরে সুষ্ঠু পরিবেশে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তবে পরীক্ষার প্রথম দিনেই ৫৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল এক হাজার ২৭০ জন। এর মধ্যে ৫৫০ জন বালক ও ৭২০ জন বালিকা। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা রুবায়াত জানান, অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করায় বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। তবে সার্বিকভাবে পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ হয়েছে।

ইটনা (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর শুরু হওয়া বৃত্তি পরীক্ষায় কিশোরগঞ্জের ইটনায় উপস্থিতি ছিল হতাশাজনক। নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। গতকাল ইটনায় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় সরেজমিন দেখা যায়, বেশ কয়েকটি কক্ষে আসন ফাঁকা পড়ে রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম এহসানুল হক বলেন, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষা দিতে আগ্রহ হারিয়েছে। এ ছাড়া অনেকে ইতোমধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে অন্য পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকায় উপস্থিতির হার এতটা কম।

চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, জেলার চিতলমারীতে অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষার প্রথম দিনে মোট ৬৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯৮ জনই অনুপস্থিত ছিল। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, দুই কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল মোট ৪৯৮ জন। অনুপস্থিতদের মধ্যে ১৩৭ জন ছাত্রী এবং ৬১ জন ছাত্র। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জানান, কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি।

খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা জানান, জেলার খালিয়াজুড়িতে অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ৪৯ শতাংশ। ৪২৬ জন নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১৮ জনই ছিল অনুপস্থিত। সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ বিরতির পর হঠাৎ পরীক্ষা শুরু হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী প্রস্তুতি নিতে পারেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, উপস্থিতি কম হলেও পরীক্ষা নকলমুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উপস্থিতি বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, পিরোজপুরের কাউখালীতে ১৬ বছর পর পুনরায় শুরু হওয়া বৃত্তি পরীক্ষায় উপস্থিতি ছিল খুবই কম। ৩১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম দিনেই অনুপস্থিত ছিল ১৫৫ জন। কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি বালক বিদ্যালয় কেন্দ্রে শান্ত পরিবেশে পরীক্ষা শুরু হলেও ফাঁকা আসন ছিল চোখে পড়ার মতো। সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ দিন পর হঠাৎ পরীক্ষা চালু হওয়া, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব এবং অনেক শিক্ষার্থীর নতুন শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে যাওয়াই এই অনুপস্থিতির মূল কারণ। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, উপস্থিতি কম হলেও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ছিল। আগামীতে অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।