ইরানি স্কুলে হামলার তদন্ত জোরদার করেছে পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্রের বর্বরতা

Printed Edition

রয়টার্স

  • ওই হামলার ঘটনায় মার্কিন বাহিনীকে সম্ভাব্য দায়ী ধরে তদন্ত করেছে সংস্থাটি

  • তদন্তে যা উঠে আসবে, তা ট্রাম্প মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন

ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ভয়াবহ হামলার ঘটনায় মার্কিন বাহিনী সম্ভবত দায়ী- এমন প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পেন্টাগন এখন তদন্তের পরিধি ও স্তর বৃদ্ধি করেছে। শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শজারেহ তাইয়্যেবা স্কুলে হওয়া ওই হামলায় ১৬৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় মার্কিন সংশ্লিষ্টতার জোরালো প্রমাণ মেলায় তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। যদি দায় প্রমাণিত হয়, তবে এটি হবে গত কয়েক দশকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের ইতিহাসে বেসামরিক নাগরিক নিহতের অন্যতম নিকৃষ্টতম ঘটনা।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তদন্তের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এখন ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের বাইরে থেকে একজন উচ্চপদস্থ জেনারেল অফিসারকে এই তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। হেগসেথ বলেন, ‘আমরা সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে কোনো তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্ত নেব না। এই ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বুঝতে কমান্ড তদন্তের জন্য যতটা সময় প্রয়োজন, আমরা তা নেব।’

প্রাথমিক তদন্তে রয়টার্স ৫ মার্চ জানিয়েছিল যে, মার্কিন বাহিনীই সম্ভবত এই হামলার পেছনে ছিল। তবে হেগসেথ তখন এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই উচ্চপর্যায়ের তদন্তটি ‘১৫-৬’ নামে পরিচিত একটি প্রশাসনিক তদন্ত, যা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের বয়ান ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। তদন্ত শেষে কারো অবহেলা প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে।

গোয়েন্দা ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী সম্ভবত পুরনো ‘টার্গেটিং ডেটা’ বা লক্ষ্যবস্তুর তথ্যের ওপর নির্ভর করেছিল। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের ওই বালিকা বিদ্যালয়টির পাশেই একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন বাহিনী ভুলবশত স্কুলটিকে সামরিক স্থাপনা ভেবে আক্রমণ চালায়।

ভিডিও এবং ধ্বংসাবশেষের নমুনা বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, স্কুলটি একটি ‘টমাহক ক্রুজ মিসাইল’-এর আঘাতে ধ্বংস হয়েছে। এই শক্তিশালী ও নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রটি বিশ্বের খুব কম দেশের কাছেই আছে এবং ইরান এই প্রযুক্তির অধিকারী নয় বলেই মনে করা হয়। হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেছিলেন যে, ইরান নিজেই নিজের স্কুলে হামলা চালিয়েছে অথবা তেহরানের কাছে টমাহক মিসাইল থাকতে পারে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের সেই দাবিকে তখনই নাকচ করে দিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক চাপের মুখে গত সোমবার ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন তদন্তে যা উঠে আসবে, তা তিনি মেনে নেবেন। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তাদের মতে, তদন্ত নিয়ে ব্যাপক জনরোষ এবং সামরিক পর্যায়ে অস্বস্তি তৈরি হওয়ায় ট্রাম্পের পক্ষে এখন তদন্তের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করা রাজনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।