নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কৃষ্ণপুরে সরকারি জলাশয় দখলের চেষ্টা
Printed Edition
মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মৎস্য ফিশারি (বরোপিট) দখল নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিরোধ আবারো তুঙ্গে উঠেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও তা উপেক্ষা করে গত বৃহস্পতিবার এক পক্ষ জলাশয়টি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণপুর মৌজায় পাউবোর মালিকানাধীন প্রায় ৬৪ শতাংশ জলাশয় নিয়ে আনিছ প্রধান ও আ: গনি প্রধানের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। পাউবো কর্তৃপক্ষ কোনো পক্ষেরই বৈধ লিজ না থাকায় সেখানে সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু গত ২৬ মার্চ সকালে আ: গনি প্রধান, তার দুই ছেলে রাহাত ও জিহাদসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জলাশয়ে প্রবেশ করেন এবং কচুরিপানা পরিষ্কারের মাধ্যমে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে আনিছ প্রধানের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বপ্না আক্তার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, প্রায় ১৭ বছর ধরে বিবাদিরা প্রভাব খাটিয়ে জলাশয়টি দখলে রেখেছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে তারা দখল ফিরে পেলেও এখন আবারো অবৈধ দখলের পাঁয়তারা চলছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত আ: গনি প্রধানের স্ত্রী পারুল বেগম দাবি করেন, তাদের মাছ রক্ষায় জনৈক শামসুদ্দিন খানের নির্দেশে তারা কচুরিপানা পরিষ্কার করছেন। তবে মেঘনা-ধনাগোদা প্রকল্পের শাখা কর্মকর্তা আবুল হোসেন খান জানান, ওই জলাশয় সম্পূর্ণ পাউবোর মালিকানাধীন এবং সেখানে এখনো নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। কাউকে কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।