পলু চাষ সম্প্রসারণ ও তুঁত গাছ রোপণে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে : প্রতিমন্ত্রী শরীফুল

Printed Edition
bangla-3
পলু চাষ সম্প্রসারণ ও তুঁত গাছ রোপণে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে : প্রতিমন্ত্রী শরীফুল

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সিল্ক শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। তিনি বলেন, ‘রাজশাহী সিল্ক শুধু একটি অঞ্চলের নয়, এটি পুরো দেশের ঐতিহ্য ও গর্ব। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আধুনিকায়ন ও গবেষণার বিকল্প নেই।’

গতকাল শনিবার সকালে রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। এ সময় তিনি রেশম শিল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা এবং উন্নয়নের জন্য একটি কার্যকর রূপরেখা প্রণয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজশাহী রেশম বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় এখন গবেষণা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পটিকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বছরে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন রেশমের চাহিদা রয়েছে। তবে স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রায় ৯০ শতাংশ রেশম বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা, প্রযুক্তির অভাব এবং দক্ষ জনবল সঙ্কট এর প্রধান কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পলু চাষ সম্প্রসারণ, উন্নত জাতের তুঁত গাছ রোপণ এবং রেশম সুতার মানোন্নয়নে গবেষণাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সাথে তিনি ঐতিহ্যবাহী কারিগর ‘বোসনি’দের ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন বোসনি রয়েছেন, যাদের দক্ষতা রেশম শিল্পের মূল ভিত্তি। তবে বয়সের ভারে তাদের সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই পেশায় যুক্ত করা না গেলে ভবিষ্যতে রেশমে বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হতে পারে।

বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীন ও জাপানের মতো দেশে বাংলাদেশী সিল্ক পণ্যের বাজার তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সাথে সমন্বয় করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো: তৌফিক আল মাহমুদ একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বোর্ডের কার্যক্রম তুলে ধরেন। এ সময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক মো: এরশাদ আলী (ঈশা) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সিল্ক শিল্প আবারো দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।