বগুড়ায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর হাত-পা ভেঙে দেয়ার অভিযোগ
Printed Edition
বগুড়া অফিস
বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আলাল শেখকে (৪৬) পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে, জেলা যুবদলের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আলাল শেখকে ফতেহ আলী বাজার থেকে তুলে নিয়ে মালগ্রাম ডাবতলা এলাকায় একটি বাগানের মধ্যে বেঁধে রেখে পিটিয়ে দুই পা ও একটি হাত ভেঙে দেয়া হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম ।
জানা গেছে, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ফতেহ আলী বাজারে ভোট গ্রহণ চলাকালে আলাল শেখকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বেলা ৩টার দিকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। আলাল শেখ শহরের চকসূত্রাপুর এলাকার মেরু শেখের ছেলে। এ ছাড়া তিনি বগুড়া শহর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কারাবন্দী মতিন শেখের শ্যালক বলে জানা গেছে। আলাল শেখের নামে হত্যা, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গত দেড় বছরের মধ্যে আলাল শেখকে পুলিশ তিনবার গ্রেফতার করে। সম্প্রতি তিনি জামিনে কারামুক্ত হন বলে জানিয়েছেন বগুড়ার ডিবি পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার।
ডিবি ওসি জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিবি পুলিশের কাছে খবর আসে শহরের ফতেহ আলী বাজার থেকে এক ব্যক্তিকে কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি দল খোঁজ করতে থাকে। পরে ডিবি পুলিশ জানতে পারে আলাল শেখ নামের ওই ব্যক্তিকে মালগ্রাম ডাবতলা এলাকায় একটি বাগানের মধ্যে বেঁধে রেখে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার সাথে যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন জড়িত। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ চারজনকে আটক করে। ডিবির ওসি আরো জানান, শফিকুল ইসলামের বাড়ি চকসূত্রাপুরে হলেও বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি মালগ্রামে বসবাস করছেন। শফিকুলের সাথে আলাল শেখ ও তার ভগ্নিপতি মতিন শেখের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এই বিরোধের জের ধরে আলাল শেখকে তুলে নেয়ার ঘটনা ঘটে। এ দিকে যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আলাল শেখ শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং মাদককারবারি। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তাদের অত্যাচারে অসংখ্য মানুষ বাড়িঘর ছাড়া হয়। তার সাথে অনেকের শত্রুতা রয়েছে। শত্রুতার জের ধরেই কে বা কারা আলাল শেখকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, ডিবি ও থানা-পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে।