হাম সন্দেহে ২৪ ঘণ্টায় ১১৭৭ শিশু হাসপাতালে : মৃত্যু ৪

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক হাজার ১৭৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময় মত্যু হয়েছে চার শিশুর। চলতি বছরে গত মার্চ মাস থেকে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে সারা দেশে হাম সন্দেহে ১৩ হাজার ৪৯৭ শিশু চিকিৎসা নিতে এসেছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আট হাজার ৯১০ শিশু। ভাইরাল এই জীবানুটি খুবই ছোঁয়াচে। হাম আক্রান্ত শিশুর পরিচর্যা করলে এটা বড়দেরও হতে পারে যদি না তাদের হামে টিকা নেয়া থাকে (সিডিসি)। সে কারণে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের হাম হলে তাদের শ্বাসনালীদের সংক্রমণ ও ডায়রিয়া হয়ে থাকে। তা ছাড়া শরীরে পুষ্টির অভাব থাকলে হাম থেকে শিশুর নিউমোনিয়া হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এনসেপালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ) হতে পারে।

হামে গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৭৭ শিশু সন্দেহের বশে হাসপাতালে ভর্তি করলেও সরকারিভাবে ১৬৮ শিশুর হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুসারে গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোট দুই হাজার ৪০৯ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ১৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে তবে স্বাস্থ্য অধিদফতর এ পর্যন্ত হামে ২৩ শিশু মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে।

হামে আক্রান্ত সন্দেহে চিকিৎসার আওতায় আসা শিশুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতে সবচেয়ে বেশি ৪৬২ জন। এরপরই আছে রাজশাহী বিভাগে ২৩০, চট্টগ্রাম ১৮৬, বরিশাল বিভাগে ৯৬, খুলনায় ৯০, সিলেট বিভাগে ৬০, রংপুরে ২৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৭ শিশু এসেছে হাম সন্দেহে চিকিৎসা নিতে। তবে এদের মধ্যে ৬৫৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা: মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হাম এত বেশি ছোঁয়াচে যে, জীবাণু রয়েছে এমন পরিবেশে থাকলে প্রতি ১০ জনের ৯ জনই আক্রান্ত হতে পারে। হামআক্রান্ত রোগীর রুমে থাকলে অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারে। কাশি কিংবা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে হামের জীবাণু ছড়ায় এবং তা দুই ঘণ্টা টিকে থাকে। এর মধ্যেই কেউ সেখানে থাকলে হামে আক্রান্ত হতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, বড়দেরও সতর্ক থাকতে হবে কারণদের হাম হলে তারা শিশুদের চেয়ে আরো বেশি মারাত্মক হতে পারে। দুই ডোজ এএমআর টিকা নেয়া থাকলে শরীরে হামের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার থাকে।

রংপুর ব্যুরো জানায়, রংপুর বিভাগে প্রতিদিন হামের উপস্বর্গ নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছেই। এখন পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ জনের। তবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর থেকে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর ও দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজসহ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৪৮ জন। যা এর আগের ২৪ ঘণ্টার চেয়ে পাঁচজন বেশি। এ নিয়ে এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৩৮১ জন। এরমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৪২ জন। ভর্তি আছে ৩৯ জন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে রংপুরে ২, লালমনিরহাটে ৩, নীলফামারী ৯, দিনাজপুর ৩, গাইবান্ধায় ৭, ঠাঁকুরগাঁওয়ে ৩, দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ৩ ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন।

অন্য দিকে পয়লা জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ১১৬ জনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এখন পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩ জনের। যার মধ্যে নীলফামারীতে পাঁচজন, দিনাজপুরে তিনজন, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে দুইজন করে এবং কুড়িগ্রামে একজন করে। তবে এই বিভাগে এখনো কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

অন্য দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে একজন । হাসাপাতালে এখন ভর্তি আছে ৯ জন। চিকিৎসা নিয়েছে চলে গেছে ৩৫ জন।