সাবেক সেনাকর্মকর্তা মাসুদ ও মামুন খালেদকে ট্রাইব্যুনালে আনার নির্দেশ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) শেখ মামুন খালেদ এবং সাবেক সেনাকর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আগামী ৭ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম মামুন খালেদকে গুমের মামলায় এবং মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ফেনীতে জুলাই গণহত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এই দুই কর্মকর্তাকে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর’ এবং ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তাদের অতীতের বহু কর্মকাণ্ড বিশেষ করে গণতন্ত্র ও সুশাসন বিনষ্ট করা, আয়নাঘর পরিচালনা এবং খুন ও গুমের মতো ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় পড়ে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব অভিযোগ প্রকাশ করা না হলেও, ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন অপরাধ করার সাহস না পান, সে জন্যই তাদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমানে এই দুই সাবেক সেনাকর্মকর্তা ভিন্ন ভিন্ন মামলায় রিমান্ডে রয়েছেন। ১/১১-এর অন্যতম কুশীলব হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গত সোমবার রাতে ঢাকার বাসা থেকে গ্রেফতার করে ডিবি। বর্তমানে তিনি পল্টন থানার একটি মানবপাচার মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন এবং এক-এগারোর সময়কার ভূমিকা নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

অন্য দিকে, শেখ মামুন খালেদকে গত বুধবার গ্রেফতার করা হয় এবং মিরপুর থানার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন একটি হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আগামী ৭ এপ্রিল তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।