প্রশাসনে বহাল আওয়ামী দোসররা সংস্কার নিয়ে শঙ্কা

Printed Edition

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে টানা দেড় দশকের আওয়ামী শাসনের অবসান ঘটলেও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনো সেই সরকারের সুবিধাভোগী ও দলঘেঁষা কর্মকর্তারা বহাল রয়েছেন। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঘিরে এমন অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনকারী কিছু কর্মকর্তা রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে বিগত ১৫ বছরে বিরোধী দল দমন, বিতর্কিত নির্বাচনে সহায়তা এবং দলীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা পরিষদের সিএ আবু তাহেরকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে।

সিরাজদিখান উপজেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের প্রশাসনে রেখে কখনোই প্রকৃত সংস্কার সম্ভব নয়। তাদের দাবি, এসব কর্মকর্তা প্রশাসনের ভেতরে থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকতে পারে। তাই দ্রুত তাদের চিহ্নিত করে অপসারণের দাবি জানান তারা। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, দ্রুত তদন্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা আরো ক্ষুণœ হবে এবং কাক্সিক্ষত সংস্কার প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়বে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১০ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সুপারিশে নিয়োগ পাওয়ার পর আবু তাহের এলাকায় একটি শক্তিশালী দালালচক্র গড়ে তোলেন। ওই সময় উপজেলা যুবলীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্যদের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণ অনুমোদনের নামে সরকারি নির্ধারিত ৯-১০ হাজার টাকার ফি থাকলেও বাস্তবে চার লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো।

সিরাজদিখান উপজেলা ইমারত নির্মাণ কমিটির একাধিক সদস্য জানান, দীর্ঘদিন একই পদে থাকার সুযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিয়মিত ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে সিএ আবু তাহের বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।