রামপুরায় মানবতাবিরোধী অপরাধ
সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৫ জনের রায় আজ, সরাসরি দেখাবে বিটিভি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার
- মানবতাবিরোধী অপরাধ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় এক তরুণকে গুলি ও দু’জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ রোববার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করবেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা ও সদস্য এই মামলার আসামি। পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি পঞ্চম রায় এবং এই রায়ের পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
এর আগে গত ১৫ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফার যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য এই দিন নির্ধারণ করেন। মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জন সাক্ষী রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে কেবল রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। বাকি চার আসামিই পলাতক। পলাতক আসামিরা হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো: রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো: মশিউর রহমান এবং সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
গত ৪ মার্চ এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও প্রসিকিউশন পক্ষ নতুন ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ফুটেজ জমা দিলে রায় স্থগিত হয়। ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, ভিডিওটি আসল এবং এআই দিয়ে তৈরি নয়। ওই ভিডিওতে চঞ্চল সরকারকে গুলি করার কথা স্বীকার করতে শোনা যায়।
এরপর গত ১০ জুন ট্রাইব্যুনালে আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকার পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন। জবানবন্দীতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। চঞ্চল আদালতকে জানান, গ্রেফতারের পর ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি থানা হেফাজতে থাকাকালীন তৎকালীন ওসির কক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা প্রবেশ করেন এবং দরজা বন্ধ করে তাকে জোহার কথামতো স্বীকারোক্তি দিতে বলেন।
পুনর্জবানবন্দীতে চঞ্চল বলেন, ‘আমি তার কথায় রাজি না হলে সে আমাকে ভয়ভীতি দেখায়। আমি তাতেও রাজি না হলে সে আমাকে সেনাবাহিনীর দ্বারা মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমি তাতেও রাজি না হলে সে আমার নিকটাত্মীয়-স্বজনকে হত্যার হুমকি দেয়।’ চঞ্চল আরো দাবি করেন, চাপের মুখে তৎকালীন ওসির পরামর্শে তিনি ওই জবানবন্দী দিতে বাধ্য হন এবং ভিডিওটি ধারণের সময় তার মানসিক অবস্থা বিপর্যস্ত ছিল।
আসামি চঞ্চলের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর কাছে তিনি স্বীকার করেন যে, ভিডিওতে চঞ্চলকে জিজ্ঞাসাবাদকারী ব্যক্তিটি তিনিই ছিলেন। তবে কোনো ধরনের হুমকির অভিযোগ নাকচ করে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, এ মামলার আসামি তরিকুলকে গ্রেফতার করতে গিয়ে ব্যর্থ হতে হয়। এরপর চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে আমি নিজেই গ্রেফতার করতে যাই এবং দীঘিনালা থেকে তাকে গ্রেফতার করি। আদালতে হাজির (প্রডিউস) করার আগে নিয়ম অনুযায়ী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
অন্য দিকে চঞ্চলের আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন ও এরশাদুল হক নয়া দিগন্তের কাছে দাবি করেন, যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তারা আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে, চঞ্চল চন্দ্র সম্পূর্ণ নির্দোষ। তারা চঞ্চলের নিঃশর্ত মুক্তি প্রার্থনা করেছেন।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করা, শিশু বাসিত খান মুসার মাথা ভেদ করে তার দাদী মায়া ইসলামের মৃত্যু এবং মো: নাদিম নামের আরেক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে এই মামলা করা হয়। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-১ বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন। গত ১৫ জুন শেষ দিনের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।