বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট
ফটোগ্রাফারকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা করার তৎপরতা নিয়ে নতুন বিতর্ক
Printed Edition
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) ফটোগ্রাফার পদে কর্মরত এক কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা (গ্রেড-১০) পদে পদোন্নতি দেয়ার তৎপরতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্রির বর্তমান ফটোগ্রাফার মো: মাসুম রানাকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেয়ার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি সভায় এজেন্ডাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১১ সালে ব্রির তৎকালীন মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীরের আমলে ব্রি প্রবিধানমালায় একটি সংশোধন আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় তার আশীর্বাদপুষ্ট এক ফটোগ্রাফারকে পদোন্নতির সুযোগ করে দিতেই ‘ফটোগ্রাফার’ পদকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা (গ্রেড-১০) পদে পদোন্নতির ফিডার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে প্রশাসনিক কাজের সাথে সরাসরি সম্পর্কহীন একটি পদকে ফিডার তালিকায় যুক্ত করার এমন নজির দেশের অন্যান্য সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নেই বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
তাদের মতে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে এমন পদগুলোকে ফিডার হিসেবে রাখা উচিত, যেগুলো সরাসরি প্রশাসনিক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত এবং যেখানে কর্মরত কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। অন্যথায় প্রশাসনিক কাঠামো ও পেশাগত মানদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অন্যদিকে মো: মাসুম রানাকে ঘিরেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি যে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদপত্র জমা দিয়েছিলেন, সেগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে জানা গেছে।
এর আগে মহাপরিচালকের দফতরের সামনে আরেক ব্যক্তির সাথে মারামারির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সেই তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনাটির প্রকৃত সত্যতা ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ২০২৪ এর আগস্ট মাসের পর থেকে মহাপরিচালকের দফতরের সামনে বিভিন্ন সময়ে যে ধরনের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তার সাথেও তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এসব ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হয়েছে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বর্তমান মহাপরিচালক, যার চাকরির মেয়াদ আগামী ২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা, তিনি তড়িঘড়ি করে ওই ব্যক্তিকে পদোন্নতি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পদোন্নতি প্রদান থেকে বিরত থাকা উচিত। একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও সুনাম রক্ষার স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলেও তারা মত দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রির মহাপরিচালক ড. খালেকুজ্জামান বলেন, ‘ব্রির প্রবিধানমালা অনুযায়ীই সব ধরনের পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এখানে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে সুবিধা দেয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট বোর্ড বা কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই কার্যকর হবে।’