বেনিন শহীদ শান্তিসেনা দিবসে বক্তারা
শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ
Printed Edition
বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত
জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও অবদান আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত- এমন মন্তব্য করেছেন সিএলএনবির চেয়ারম্যান এবং বৈষম্যবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবার কল্যাণ পরিষদের সভাপতি হারুনূর রশিদ। তিনি বলেন, শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত বাংলাদেশী বীর শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য গর্ব ও সম্মানের।
গতকাল বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বেনিন শহীদ শান্তিসেনা দিবস উপলক্ষে সিএলএনবি ও বৈষম্যবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবার কল্যাণ পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত শান্তি সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হারুনূর রশিদ ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলার ঘটনায় ছয় বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীর নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, এ বর্বরোচিত হামলায় করপোরাল মো: মাসুদ রানা, সৈনিক মো: মমিনুল ইসলাম, সৈনিক শান্ত মণ্ডল, সৈনিক শামীম রেজা, মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও লন্ড্রি কর্মচারী মো: সবুজ মিয়া শহীদ হন এবং আরো ৯ জন আহত হন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বাধিক সংখ্যক সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণকারী দেশ। ১৯৮৮ সালে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের ৪০টি দেশের ৬৩টি মিশনে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ১০টি দেশে প্রায় সাত হাজার শান্তিরক্ষী কর্মরত রয়েছেন। শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে।
সমাবেশে অন্য বক্তারা বলেন, সঙ্ঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবিক সহায়তা, উদ্ধার তৎপরতা ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর ১৭৪ জন সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের কারণে বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা আরো সুদৃঢ় হয়েছে।
আলোচনা শেষে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শহীদ শান্তিসেনা, মহান মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই বিপ্লবসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। বিজ্ঞপ্তি।