মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত যুদ্ধের আশঙ্কা

ইসফাহানে হামলায় পাল্টা আঘাত ইসরাইলে

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

  • ইসরাইলের পুলিশ সদর দফতর এবং প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট কেন্দ্রে হামলা
  • লেবানন ফ্রন্টে হিজবুল্লাহ-ইসরাইল সঙ্ঘাতে বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সঙ্ঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এই সঙ্ঘাত এখন কেবল দুই দেশের সীমিত দ্বন্দ্ব নয়; বরং তা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। খবর : আলজাজিরা ও টাইমস অব ইসরাইলের।

সাম্প্রতিক হামলার মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও সামরিক কেন্দ্র ইসফাহান প্রদেশে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত ১৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্য দিকে ইরান দাবি করেছে, তারা ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একাধিক দফায় হামলা চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সঙ্ঘাত দ্রুত একটি বহুমাত্রিক আঞ্চলিক সঙ্কটে রূপ নিচ্ছে।

ইসফাহানে হামলা ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি : ইরানের ইসফাহান প্রদেশ দেশটির শিল্প ও সামরিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সাম্প্রতিক হামলায় বিভিন্ন কারখানা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে। যদিও হামলার ব্যাখ্যায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র বলছে যে এটি সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, তবুও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্য বলে দাবি করছে তেহরান।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, হামলায় অন্তত ১৫৩টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২০০ শিশু ও শতাধিক নারী রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসফাহানে হামলা শুধু সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেনি; এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও আঘাত হেনেছে। শহরের সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সরকারি উদ্যোগ সীমিত বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা : সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সঙ্ঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। ইরানের ইসলামিক রেভুল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৪’ নামে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে তারা নতুন দফায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে।

তাদের দাবি অনুযায়ী, ফাতাহ ও কদর ধরনের অন্তত ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা ইসরাইলি সামরিক স্থাপনা ও যুক্তরাষ্ট্র-সম্পৃক্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে ছোড়া হয়।

এই হামলার জবাবে ইসরাইল তাদের বহুল আলোচিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে বহু আক্রমণ প্রতিহত করেছে বলে জানিয়েছে। তবে ইসরাইলি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কারণে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুদ কমে আসছে। যদিও ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার এই দাবি অস্বীকার করেছেন।

আইআরজিসির নতুন হামলার ঘোষণা : ইরানের ইসলামিক রেভুল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৪’ সামরিক অভিযানের ৫৩তম ধাপ শুরু করেছে। রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই অভিযানে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ ও কদর’ এবং আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরাইল-সম্পৃক্ত কমান্ড অবকাঠামো।

আইআরজিসির দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি এই হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। তেহরানের অভিযোগ, এই ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে গোয়েন্দা ও লজিস্টিক সহায়তা পাচ্ছে।

বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি : আইআরজিসি জানিয়েছে, আগের ধাপগুলোতে তারা মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের আল-হারির ঘাঁটি, কুয়েতের আলি আল-সালেম ও আরিফজান ঘাঁটি, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর এবং জর্দান ও কুয়েতের অন্যান্য সামরিক স্থাপনা। ইরানের দাবি, এসব ঘাঁটি থেকে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।

‘প্রতিরোধ অভিযান’ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা : আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান আরো জোরদার করা হবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এবং আক্রমণকারীরা শাস্তি না পাওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।’

তাদের দাবি, চলতি মাসের শুরুতে শ্রীলঙ্কার উপকূলে একটি মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ ডেনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৮৪ নাবিক নিহত হন। সেই নাবিকদের স্মৃতিতেই অভিযানের একটি ধাপ উৎসর্গ করা হয়েছে বলে বলা হয়েছে।

নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি : আইআরজিসি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উদ্দেশে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, ‘যদি নেতানিয়াহু এখনও জীবিত থাকেন, তবে তাকে শাস্তি না দেয়া পর্যন্ত আমরা তাকে অনুসরণ করব।’ বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

ইসরাইলের পুলিশ সদর দফতর ও স্যাটেলাইট কেন্দ্রে হামলা : ইরান দাবি করেছে, ইসরাইলের পুলিশ সদর দফতর এবং একটি প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রের ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘লাহাভ ৪৩৩’ বিশেষ পুলিশ ইউনিট সদর দফতর এবং গিলাত স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

লেবানন ফ্রন্ট ও হিজবুল্লাহ : লেবাননে ইসরাইলি হামলা এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা প্রতিক্রিয়া সঙ্ঘাতকে আরো জটিল করে তুলেছে। ইসরাইল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ফোর্সের কয়েকটি কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সঙ্ঘাতে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে মানবিক সঙ্কট দ্রুত বাড়ছে। বেসামরিক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানান্তরিত হচ্ছে এবং ত্রাণ কার্যক্রমের ওপর চাপ বাড়ছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা : ইরান-ইসরাইল সঙ্ঘাতের প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোতেও পড়ছে। সৌদি আরবের আকাশসীমায় ড্রোন প্রতিরোধ এবং বাহরাইনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অভিযান নিয়মিতভাবে দেখা যাচ্ছে। কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমাতেও সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

হরমুজ প্রণালী ও বৈশ্বিক অর্থনীতি : হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। এই প্রণালীর নিরাপত্তা বিঘিœত হলে বৈশ্বিক তেল বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। যুক্তরাজ্যের জ্বালানি সচিব এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রণালী নিরাপদ রাখার বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সঙ্ঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আরো বাড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক চাপ : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেল্লাতি কাতার সফরে গেছেন এবং উপসাগরীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করছেন। অন্য দিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকসি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন নুরেল ব্যারটের সাথে কথা বলে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তুরস্ক, ফ্রান্স, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশও পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

ট্রাম্পের অবস্থান ও কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সাথে কোনো সমঝোতার জন্য প্রস্তুত নন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং সঙ্ঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অভিযান : ইরান দেশজুড়ে ইসরাইল-সম্পৃক্ত গুপ্তচর নেটওয়ার্ক ভাঙার দাবি করেছে। ওয়েস্ট আজারবাইজান প্রদেশে অন্তত ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সহযোগিতার অভিযোগে আরও অন্তত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

নকল ড্রোন বানিয়ে হামলার দাবি : ইরান অভিযোগ করেছে, শত্রুপক্ষ তাদের ড্রোনের নকল তৈরি করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালাচ্ছে যাতে দায় তেহরানের ওপর চাপানো যায়। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

ইসরাইলে আহতের সংখ্যা বাড়ছে : ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সাথে চলমান সঙ্ঘাতে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০৮ জন আহত হয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৯৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮১ জন এখনো চিকিৎসাধীন।

মানবিক বিপর্যয়

লেবানন ও ইরানের বেসামরিক মানুষ যুদ্ধের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নারী ও শিশুসহ শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ ইউক্রেন থেকে সরে যেতে পারে। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা বজায় রাখতে চায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়েও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ক্রীড়াঙ্গনে প্রভাব

নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কাতারের মোটোজিপি গ্রাঁ প্রি প্রতিযোগিতা স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর আরো প্রভাব পড়তে পারে।

উত্তর আফ্রিকায় ভূরাজনৈতিক প্রভাব

এই সঙ্ঘাতের প্রভাব উত্তর আফ্রিকার রাজনীতিতেও দেখা যাচ্ছে। আলজেরিয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে। অন্য দিকে মরক্কো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের সুযোগ হিসেবে পরিস্থিতিকে দেখছে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা খুবই সীমিত। ইরান আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান দৃঢ় রাখতে চায়, আর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

কূটনৈতিক উদ্যোগ দ্রুত কার্যকর না হলে এই সঙ্ঘাত আরো বিস্তৃত আঞ্চলিক কিংবা আন্তর্জাতিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।