ইরান ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-চীন-রাশিয়া
Printed Edition
টিআরটি ওয়ার্ল্ড
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সাথে রাশিয়া ও চীনের তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরিষদের বৈঠকে উত্তপ্ত আলোচনা হয়।
এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রাশিয়া ও চীন ইরানের ওপর জাতিসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা তদারকির জন্য গঠিত একটি কমিটি নিয়ে আলোচনা বন্ধ করার প্রস্তাব দেয়। তবে ওই প্রস্তাব ভোটাভুটিতে ১১ বনাম দুই ভোটে খারিজ হয়ে যায় এবং দুই দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
বৈঠকে জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে রক্ষা করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ১৭৩৭ কমিটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে মস্কো ও বেইজিং তেহরানকে সহায়তা করার চেষ্টা করছে। ওয়াল্টজ আরো বলেন, জাতিসঙ্ঘের সব সদস্য দেশের উচিত ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক সম্পদ জব্দ করা।
তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ জানিয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন দেশগুলোর মধ্যে ইরানই একমাত্র দেশ যারা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন ও মজুদ করেছে এবং সংস্থাটিকে সেই মজুদের পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার দেয়নি। অন্য দিকে রাশিয়ার জাতিসঙ্ঘে রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অযথা আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। তার মতে, তেহরানের বিরুদ্ধে আরেকটি সামরিক অভিযান চালানোর অজুহাত তৈরির জন্যই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
চীনের প্রতিনিধি ফু কংও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ইরান পারমাণবিক সঙ্ঘটের মূল উসকানিদাতা ওয়াশিংটন নিজেই। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য শক্তি প্রয়োগ করেছে, যা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করেছে। এ বিষয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সবসময়ই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে। নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রচেষ্টা তেহরান গ্রহণ করবে না বলেও তিনি জানান।
ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে চায় না জার্মানি
এদিকে আলজাজিরা জানায়, ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জার্মানি কোনো যুদ্ধে জড়াতে চায় না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় সামরিক সহায়তা প্রদানের কোনো কারণ বার্লিন দেখছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নরওয়ে সফরকালে চ্যান্সেলর মের্ৎস বলেন, জার্মানি এই যুদ্ধের অংশ নয় এবং আমরা এর অংশ হতেও চাই না। ইরানি হামলার আশঙ্কায় ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌ-নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এই মুহূর্তে সেখানে সামরিক সুরক্ষা প্রদানের কোনো যৌক্তিকতা নেই। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান কর্তৃক বিভিন্ন হামলার ঘটনার পর এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে জার্মানি শুরু থেকেই এই সঙ্ঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার পরিবর্তে কূটনৈতিক অবস্থানের ওপর জোর দিয়ে আসছে।