প্রেস পাড়ায় আতঙ্ক, পাঠ্যবই মুদ্রণে শঙ্কা
আওয়ামী সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রশাসক নিয়োগ
দীর্ঘ দিনের পরিচিত আওয়ামী ঘরানার প্রেস মালিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির কমিটি বাতিল করে গত ১৩ জুলাই প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
Printed Edition
আওয়ামী লীগের আশীর্বাদপুষ্ট প্রেস মালিকদের সিন্ডিকেট ভেঙে গেছে। দীর্ঘ দিনের পরিচিত আওয়ামী ঘরানার প্রেস মালিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির কমিটি বাতিল করে গত ১৩ জুলাই প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এতে আপাতদৃষ্টিতে প্রভাবশালী প্রেস মালিকদের আধিপত্যে কিছুটা হলেও চিড় ধরেছে। অবশ্যই কমিটি বাতিলের ঘোষণায় অনিয়মের জড়িত থাকা প্রেস মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা তাদের সমিতির নিজস্ব অফিসে (সিটি হার্ট ৫ম তলা, ৬৭ নয়াপল্টন ঢাকা) তালা ঝুলিয়ে দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে।
এদিকে গত দুই দিনে প্রেস মালিকদের অনেকেই নিজেদের বক্তব্যে অতীতের আওয়ামী লীগের নানা অপকর্মের বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তারা বলছেন আওয়ামী মন্ত্রী সভার সাবেক এক মন্ত্রীর আপন ভাই একক আধিপত্য বিস্তার করে নিজেই সমিতির সভাপতির পদটি দখলে নিয়ে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের টেন্ডার ভাগাভাগি করেছেন। তার ভয়ে অন্য কোনো সদস্য টু শব্দটি পর্যন্ত করতে পারতেন না। আবার কেউ যদি এই নেতার বিরাগভাজন হতেন তাহলে তিনি টেন্ডারে কোয়ালিফাই হলেও কাজ পেতেন না। অভিযোগ রয়েছে পাঠ্যবই মুদ্রণের আগেই একটি বড় অঙ্কের টাকা সরকারের উচ্চপর্যায়ের কিছু কর্তা ব্যক্তিদের পকেটে কিংবা ভ্যানিটি ব্যাগে চলে যেত। আর এভাবেই নিম্নœমানের বই ছাপার লাইসেন্স দেয়া হতো প্রেস মালিকদের। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে আওয়ামী সিন্ডিকেটের সদস্য প্রেস মালিকরা ২০২৬ সালের পাঠ্যবই মুদ্রণেও বড় ধরনের সাবোটাস ঘটাতে পারেন। এ বিষয়ে এখন থেকেই সরকারের বিভিন্ন বাহিনী এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকেও সতর্ক এবং সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরুতে যাতে সব শিক্ষার্থী সব বই হাতে পায় সে বিষয়ে এখন থেকেই তৎপর হতে হবে।
এনসিটিবি এবং প্রেস মালিকদের একাধিক সূত্র জানায়, বিগত বছরগুলোতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপতে অনেক বড় অঙ্কের অর্থ তছরূপ হয়েছে। কিন্তু এসব কিছু দেখেও কোনো প্রতিকার করতে পারেনি অপেক্ষাকৃত ভালো মানের বই ছাপার প্রেস মালিকরা। আবার মন্ত্রণালয় কিংবা সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের নিজস্ব স্বার্থ থাকায় এনসিটিবি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হয়েও প্রতিকারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। তবে ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ফলে আওয়ামী দাপট এবং তাদের লুটপাটের বিরুদ্ধে সবাই সরব হয়েছেন। এরই ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ প্রায় এক বছর পরেই মুদ্রণ শিল্প সমিতির ১৭ বছরের সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া হয়েছে। অবশ্য আতঙ্কের বিষয় হলো প্রকাশ্যে অনেক প্রেস মালিক আওয়ামী লীগের সাফাই না গাইলেও গোপনে তারা নানাভাবে ফন্দিফিকির করছেন। এরই মধ্যে যেসব টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এর বাইরে বাকি টেন্ডারের কাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্যও চক্রান্ত করছে ওই সিন্ডিকেট। এতে যেমন দীর্ঘদিনের বঞ্চিত প্রেস মালিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি সক্ষমতার চেয়ে বেশি কাজ নেয়ায় যথাসময়ে বই ছাপা শেষ করা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।