যুদ্ধবিরতি বাড়ালেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের হামলা অব্যাহত
Printed Edition
আলজাজিরা
ওয়াশিংটনে আলোচনার পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো ৪৫ দিন বাড়াতে সম্মত হওয়ার মাত্র একদিন পরই দক্ষিণ লেবাননে আবার নতুন করে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। যদিও এই যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কখনোই মেনে চলা হয়নি।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) শনিবার দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত পাঁচটি গ্রামে হামলার খবর জানিয়েছে। একই সময়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী সিডন ও নাবাতিয়াহর কাছাকাছি দক্ষিণ লেবাননের কাআকাইয়াত, আল-স্নোবার, কাউথারিইয়াত আল-সাইয়াদ, আল-মারওয়ানিয়াহ, আল-ঘাসানিয়াহসহ মোট ৯টি গ্রামের বাসিন্দাদের জোরপূর্বক ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নতুন নির্দেশ জারি করেছে।
গতকাল শনিবার সকালে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর আল-শাকীফ শহরেও বিমান হামলা চালায় বলে এনএনএ নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি আরো জানায়, কফার তেবনিট, আরনৌন শহর এবং আরনৌন-কফার তেবনিট সংযোগ সড়কে ভারী কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। অন্য দিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামোগত স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা এই দুই দেশের মধ্যে গত মাসে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ইসরাইল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনে এই নতুন আলোচনা করেন। হিজবুল্লাহ অবশ্য এই আলোচনার বিরোধিতা করছে। বিশেষ করে গত ১৭ এপ্রিল থেকে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে এবং এর কিছু অংশ দখল করে রেখেছে। তবে ওয়াশিংটনে থাকা লেবাননের আলোচনাকারী প্রতিনিধিদল শুক্রবার ইসরাইলের সাথে এই ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় একটি নিরাপত্তা পথ তৈরি হওয়া আমাদের নাগরিকদের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ দেবে। এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করবে এবং স্থায়ী স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক পথকে এগিয়ে নেবে।
দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহর থেকে আল-জাজিরার ওবাইদা হিত্তো শনিবার জানান, আজ দেশের পূর্বাঞ্চলের ইয়োহমোর ও খেরবেত কানাফারে কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, এই যুদ্ধবিরতি কেবল নামেই যুদ্ধবিরতি। গতকাল যখন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিচ্ছিল, ঠিক সেই সময়েই ইসরাইল এখানকার টায়ার শহরের দু’টি ভবন খালি করার নির্দেশ জারি করছিল। হিত্তো আরো যোগ করেন, দুর্ভাগ্যবশত দক্ষিণ লেবাননের মানুষের জন্য এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সামান্যতম শান্তিও বয়ে আনেনি। পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়া নিয়ে মানুষ এখনো শঙ্কিত। বিশেষ করে ইসরাইল যুদ্ধবিরতির আগের ধাপটিকে যেভাবে হামলা বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করেছিল, এবারো অনেকে ঠিক তেমন কিছুরই আশঙ্কা করছেন। লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় দুই হাজার ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫০০ জনেরও বেশি মারা গেছেন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে।