বিশ্ব চলচ্চিত্রের মহোৎসব
৯৮তম অস্কারের ট্রফি কার হাতে?
Printed Edition
সাকিবুল হাসান
হলিউডের ঐতিহ্যবাহী ডলবি থিয়েটারে আজ সোমবার ভোরে (বাংলাদেশ সময়) পর্দা নামল বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক আসর ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থানীয় সময় রোববার রাতে শুরু হওয়া এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্ধারিত হলো গত বছরের সেরা অভিনয়শিল্পী, পরিচালক এবং কলাকুশলীদের ভাগ্য। যখন এই প্রতিবেদনটি সম্মানিত পাঠকের হাতে পৌঁছেছে, ততক্ষণে অস্কারের সোনালি ট্রফিগুলো তাদের নতুন ঠিকানায় পৌঁছে গেছে এবং হলিউডের ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে এক নতুন অধ্যায়।
এবারের অস্কার আসরটি ছিল নানা কারণেই বিশেষ। টানা দ্বিতীয়বারের মতো সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন জনপ্রিয় মার্কিন কৌতুক অভিনেতা ও টিভি উপস্থাপক কোনান ও’ব্রায়েন। তার তীক্ষè রসবোধ আর সাবলীল উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণবন্ত। অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগে থেকেই রেড কার্পেট উন্মোচন করে যে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছিল, তার চূড়ান্ত রূপ দেখা গেল আজ। এবারের আয়োজনে প্রাধান্য পেয়েছে ‘হিউম্যানিটি’ বা মানবিকতার থিম। আয়োজকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে মানুষের ছোঁয়া এবং সৃজনশীলতাকে উদযাপন করাই ছিল এবারের মূল লক্ষ্য।
পুরস্কারের দৌড়ে এবার সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল রায়ান কুগলার পরিচালিত ‘সিনার্স’। সিনেমাটি অস্কারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৪টি মনোনয়ন পেয়ে আগেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছিল। এর আগে কেবল ‘টাইটানিক’, ‘লা লা ল্যান্ড’ এবং ‘অল অ্যাবাউট ইভ’ এমন কৃতিত্ব দেখাতে পেরেছিল। এছাড়া ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’ ১৩টি এবং ‘মার্টি সুপ্রিম’, ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ ও ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ ৯টি করে মনোনয়ন নিয়ে পুরস্কারের প্রবল দাবিদার হিসেবে মঞ্চে লড়াই করেছে। অস্কারের অন্যতম শক্তিশালী বিভাগ ‘সেরা চলচ্চিত্র’-এর লড়াইয়ে এবার হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা হয়েছে ‘হ্যামনেট’ এবং ‘সিনার্স’-এর মধ্যে।
এবারের আসরে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে ‘অ্যাচিভমেন্ট ইন কাস্টিং’ নামক একটি নতুন বিভাগ। প্রায় দুই দশক পর একাডেমি কোনো নতুন বিভাগ চালু করল, যার মাধ্যমে পর্দার পেছনের কারিগর কাস্টিং ডিরেক্টরদের মেধা ও পরিশ্রমকে সরাসরি স্বীকৃতি দেয়া হলো। এই বিভাগে নিনা গোল্ড ও জেনিফার ভেন্ডিত্তির মতো খ্যাতিমান ডিরেক্টরদের কাজ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া মঞ্চে দেখা গেছে বেশ কিছু রোমাঞ্চকর পুনর্মিলনী। ‘ব্রাইডসমেইডস’ সিনেমার অভিনয়শিল্পীরা যেমন দীর্ঘ সময় পর একসঙ্গে মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন, তেমনি মার্ভেল ইউনিভার্সের সুপারহিরোদের উপস্থিতিও দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
পুরস্কার তুলে দেওয়ার জন্য মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন হলিউডের একঝাঁক মহাতারকা। গত বছরের সেরা অভিনেত্রী মাইকি ম্যাডিসন এবং অভিনেতা কাইরান কালকিন ছাড়াও নিকোল কিডম্যান, রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস, অ্যান হ্যাথাওয়ে এবং পেড্রো পাসকালের মতো তারকারা বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন। সঙ্গীতের ছন্দে আসর মাতিয়েছেন জোশ গ্রোবান, মিস্টি কোপল্যান্ড এবং রাফায়েল সাদিক। বিশেষ করে ‘গোল্ডেন’ গানের পরিবেশনাটি ছিল রাতের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স।
ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল বেশ কিছু মনোনয়ন ঘিরে। ‘সিনার্স’-এর চিত্রগ্রাহক অটাম ডুরাল্ড আরকাপাও প্রথম নারী হিসেবে সেরা সিনেমাটোগ্রাফি জেতার অপেক্ষায় ছিলেন। অন্যদিকে কস্টিউম ডিজাইনার রুথ ই. কার্টারের সামনে সুযোগ ছিল প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে তিনটি অস্কার জয়ের রেকর্ড গড়ার। উল্লেখ্য, গত বছর সেরা চলচ্চিত্রের মুকুট জিতেছিল ‘আনোরা’। সেই রেশ ধরেই এবারের বিজয়ীরা আগামী এক বছরের জন্য বিশ্ব চলচ্চিত্রের সিংহাসনে আরোহণ করলেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের এই তারকাবহুল রাতটি শেষ পর্যন্ত কার জন্য সৌভাগ্যের বার্তা নিয়ে এলো, তা এখন বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আলোচনার প্রধান বিষয়।