মান রাখলেন তনয়-রিয়াদুল

Printed Edition
khela-2
ভারতীয় প্রতিপক্ষকে হারানো রিয়াদুল ও তনয় : নয়া দিগন্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ইউনেক্স-সানরাইজ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সিরিজে গত দু’দিন শুধু হারের গল্পই রচনা করেছে স্বাগতিক শাটলাররা। পুরুষ-মহিলা একক-দ্বৈতে শুধুই হতাশার গল্প। তন্মধ্যে শেষ ষোলতে জায়গা করে মান রাখলেন অখ্যাত দুই শাটলার তনয় সাহা ও রিয়াদুল ইসলাম জুটি। হারের মরুভুমিতে ফুল হয়ে ফুটল দিনাজপুর অ্যালোরা ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমির এই দুই ছাত্র।

শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেরা ৩২-এর লড়াইয়ে ভারতের ভেংকট সানী নাগা-সাই প্রুধভি সারানাম জুটির কাছে প্রথম গেম ২১-৮ পয়েন্টে হেরে পরের দুই গেম ২১-৮ ও ২১-১৩ পয়েন্টে জিতে নিলো তনয়-রিয়াদুল। তাতে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বলতে গেলে ভারতের প্রতিযোগিরা তাদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি। আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন আসরে এটিই তাদের সেরা সাফল্য। তৃতীয়বারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নিয়ে সেখানে নিজেদের সেরা সাফল্যকে স্পর্শ করতে পেরে দারুণ খুশি খুলনার ছেলে রিয়াদুল-তনয়। এই জয়ের মধ্য দিয়ে একটা প্রতিশোধ নেয়া হলো তাদের। আগে ভারতীয় জুটির কাছে হেরেই বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল চ্যালেঞ্জ টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। এবার সেই ভারতকে হারিয়েই শেষ ষোলোতে উঠে এলেন।

ম্যাচশেষে তনয় সাহা বলেন, ‘আমরা পাঁচ বছর ধরে জুটি বেঁধে এক সাথে খেলছি। আমাদের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া। ধীরে ধীরে উন্নতি করছি। আমাদের সাফল্যের পেছনে রাজু (অহিদুজ্জামান) স্যারের অবদান সবচেয়ে বেশি। রাজু স্যারের মতো ভালোমানের একজন কোচ পেয়ে আমরা ধন্য। আরো ধন্যবাদ দিতে চাই অ্যালোরা শাটলার অ্যাকাডেমিকে। দিনাজপুরের এই অ্যাকাডেমিটা বিশ্বমানের। এখানে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সব মিলে সিরিজে আমরা প্রথম ম্যাচ জিতলাম। সামনে আর অনেকদূর যেতে চাই।’

রিয়াদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চলতি ন্যাশনালে-৭-এ অবস্থান করছি। আগের দুই আন্তর্জাতিক আসরে আমরা ভালো করতে পারিনি। এই সিরিজে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলাতে উঠতে পেরে ভীষণ আনন্দিত। চ্যাম্পিয়ন হতে চাওয়াটা কঠিন, তবুও আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে।’

দ্বৈতের সাফল্যের দিনে এককেও দু’টি জয়ের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ। তারকা শাটলার খন্দকার আবদুস সোয়াদ এককে জয় পেয়েছেন। ইরানের সৈয়দ আরমিন জাকিকে তিন সেটের লড়াইয়ে ২১-১৭, ১৭-২১ ও ২২-২০ পয়েন্টে হারিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উন্নীত হয়েছেন। এককে জয় পেয়েছেন স্বাগতিক দলের চিং মং মারমাও। থাইল্যান্ডের পান্নাচি বোমমাককে ২১-১৫, ১১-২১ ও ২২-২০ পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত করেন। পুরুষ এককে গতকাল আর কেউ জিততে পারেননি।

আল আমিন জুমার, আইমান ইবনে জামান, সিফাত উল্লাহ গালিব, গৌরব সিংহের মতো বড় নামগুলো নিজ নিজ খেলায় হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছেন। এছাড়া হেরেছেন মো: রতন, আবদুল হামিদ লুকমান, রবিউল ইসলাম রিপন। সিফাত ব্রাদার্স দ্বৈতেও হেরেছেন। নারী এককে বড় নাম ঊর্মি আক্তার পাত্তাই পাননি মালয়েশিয়ার লিম ঝি শিনের কাছে। হেরেছেন ২১-৬ ও ২১-৯ পয়েন্টে।