সিলেটে প্রবাসীদের জন্য ৩ হাজার একর জায়গায় গড়ে উঠছে নতুন ‘উপশহর’
প্রাথমিকভাবে জায়গা জমি নির্ধারণ ও জরিপ কাজ শুরু
Printed Edition
আবদুল কাদের তাপাদার সিলেট
সিলেটে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য মহানগরের অদূরে শাহজালাল উপশহরের মতো আরেকটি উপশহর গড়ে উঠছে। প্রায় তিন হাজার একর জায়গা নিয়ে এই উপশহরের যাবতীয় উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন এই উপশহরের কাজ শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সারওয়ার আলম। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীরা দেশে বেড়াতে এসে নিরাপত্তাহীনতা ও সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে অসুবিধায় পড়েন। এসব কারণে প্রবাসীদের নতুন প্রজন্মের অনেকে দেশে আসতে অনাগ্রহী। এই সমস্যা সমাধানে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: সারওয়ার আলম। সিলেটের প্রবাসীদের নিরাপদ ও আধুনিক আবাসন নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মহানগরের অদূরেই একটি নতুন উপশহর গড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল রোববার বিকেলে নয়া দিগন্তের সাথে আলাপকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জানান, ‘নগরের বর্তমান হজরত শাহজালাল উপশহরের মতো আরেকটি উপশহর গড়ে তুলতে চাই আমরা। সরকার এটা শুরু করবে। প্রবাসীরা বাড়ি কিংবা প্লট কিনে নেবেন। আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেইনি। একটু জানাজানি হওয়ায় আমি বেশ সাড়া পাচ্ছি। দেশ-বিদেশের অনেকেই ফোন করে এই উদ্যোগের প্রশংসা করছেন এবং এটা এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছেন।’ শনিবার নগরের কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘প্রবাসী সম্মাননা ২০২৫ অনুষ্ঠানে’ নতুন উপশহর গড়ে তোলার এ তথ্য জানান সারওয়ার আলম।
এ সময় প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা জেনে-শুনে খুশি হবেন, ইতোমধ্যে সিলেট শহরের সাথেই শুধু প্রবাসীদের জন্য প্রায় তিন হাজার একর জায়গা নিয়ে একটি নতুন উপশহর গড়ার কাজ হাতে দিয়েছি। এখানে কেবল প্রবাসীরাই থাকবেন। আশা করছি কয়েক মাসের মধ্যে একটি নতুন উপশহরের জন্ম হবে। যেখানে প্রবাসীরা ইংল্যান্ডসহ উন্নত বিশ্বে পৃথিবীর যত সুযোগ-সুবিধা আছে তারা এখানে পাবেন। প্রবাসীরা যখন দেশে আসেন তারা যেন সেইফলি এখানে থাকতে পারেন সে ব্যবস্থ করা হবে। এখানে তাদের কোনো সমস্যা হবে না।’
সিলেটের জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের যারা এ কাজটি করছেন তারা ইতোমধ্যে এসে জায়গা দেখে গেছেন। জরিপ চলছে। এটি অনেকটি এগিয়ে গেছে। আশা করছি, ছয় মাসের মধ্যে এই কাজটি শুরু হবে।
শনিবার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সিলেটের ১০৩ প্রবাসীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. আব্দুন নাসের খান বলেন, প্রবাসীরা এ দেশের গর্ব ও হৃৎস্পন্দন। তারা দূর প্রবাসে থেকেও হৃদয়ে লাল-সবুজের পতাকা ধারণ করেন। তারা নিজেদের ঘাম, শ্রম আর ভালোবাসা দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছেন।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, সিলেটকে লন্ডনের মতো উন্নত বানাতে যা যা করা দরকার, তা করা হবে। সিলেটকে সেভাবে গড়তে হলে দেশে বিনিয়োগ করতে হবে।
জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খান মো: রেজা-উন-নবী, পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম, প্রবাসী ব্যক্তিত্ব ড. ওয়ালি তশর উদ্দিন ও ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।
এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী, সরকারি-বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তা, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে সার্কিট হাউজ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে শেষ হয়। এ বছর নির্ধারিত সময়ে সম্মাননা পাওয়ার জন্য বিশ্বের ১১টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের থেকে প্রায় এক হাজার আবেদন জমা পড়ে।
তার মধ্যে ড. ওয়ালি তশর উদ্দিন, ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, স্পিকার আয়াজ মিয়া, ব্যারিস্টার কুতুবউদ্দিন সিকদার, ইকবাল আহমেদসহ মোট ১০৩ জনকে ছয়টি ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করা হয়।