সেন্টুতে বদলে যাওয়া মোহামেডান

Printed Edition

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

দেশ সেরা একটি ক্লাব। যাদের দখলে চলমান বাংলাদেশ ফুটবল লিগের শিরোপা। অথচ এই মোহামেডানই চলতি বছর কোনো জয়ের দেখা পাচ্ছিল না। লিগ ও ফেডারেশন কাপ। দুই আসরেই ১৭ এপ্রিলের আগ পর্যন্ত এ বছর কোনো ম্যাচেই জিততে পারেনি। তাই লিগে ঢাকা আবাহনীর কাছে ১০ এপ্রিল হারের পর কোচ আালফাজ আহমেদকে বরখাস্ত করে মোহামেডান ক্লাব কর্তৃপক্ষ। দায়িত্ব দেয়া হয় আলফাজেরই সহকারী আবদুল কাইয়ুম সেন্টুকে। এই সেন্টু দায়িত্ব নেয়ার পরপরই পাল্টে গেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির মাঠের চেহারা। জয় পেতে শুরু করেছে লিগ এবং ফেডারেশন কাপ উভয়টিতেই। সাদা-কালো শিবিরের হেড কোচ হওয়ার পর সেন্টু যে দুই ম্যাচে হেড কোচ হিসেবে ডাগ আউটে দাঁড়ান উভয় ম্যাচেই বড় জয় মতিঝিল ক্লাব পাড়ার দলটির। সে সাথে দুই ম্যাচেই ক্লিন শিটে জয়। ১৭ এপ্রিল লিগে ইয়ংম্যান্স ক্লাবকে ৩-০তে হারানোর পর পরশু ফেডারেশন কাপের ম্যাচে ৪-০ তে হারানো আরামবাগ ক্লাবকে। আমারবাগকে হারিয়ে মোহামেডান এখন ফেডারেশন কাপের কোয়ালিফায়ার টুতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচ সেন্টু। আলফাজের সাথেই ২০০৩ সালের সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ছিলেন সেন্টু। ২০০৩ ও ২০০৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলে খেলা সেন্টু ভুটানের জিগমে দর্জি ওয়াংচুক কাপ ও সাফ ফুটবল জিতেছেন। আবাহনী, মোহামেডান, ধানমন্ডি, অগ্রণী ব্যাংক ও মুক্তিযোদ্ধায় খেলে ২০০৯ সালে অবসরে। ২০১০ সালে কোচিংয়ে আসা এই সাবেক মিডফিল্ডার ২০২৩ সাল থেকে মোহামেডান ক্লাবের সহকারী কোচ। ২০২০-২১ মৌসুমে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের হেড কোচ। এর আগে ২০১৬ সালে মোহামেডান তাকে হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিলেও পরে ভারতের সৈয়দ নইমুদ্দিনকে হেড কোচ বানায়। এ ছাড়া সেন্টু চট্টগ্রাম আবাহনী, লে. শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, আরামবাগ ও মুক্তিযোদ্ধায় সহকারী কোচ ছিলেন।

চলতি সিজনে ফেডারেশন কাপে মোহামেডানের পরশুর আগের জয়টি ছিল ২৩ সেপ্টেম্বর পুলিশের বিপক্ষে। আর লিগে ১৭ এপ্রিলের আগে জিতেছিল ৬ ডিসেম্বর পিডব্লিউডির বিপক্ষে। এরপর টানা সাত ম্যাচে জয়হীন। ফেডারেশন কাপেও টানা দুুই ম্যাচে জিততে ব্যর্থ হওয়া। তবে সেন্টু হেড কোচ হওয়ার সাথে সাথেই জয়ে ফেরা ২০২৩-২৪ সিজনের ফেডারেশন কাপে জয়ীদের। কিভাবে এই পরিবর্তন দলে? সেন্টুর মতে, এখানে ¯্রফে চিন্তা চেতনার বদল। খেলোয়াড়রাতো সবই আগের। আমি জাস্ট দলকে আক্রমণাত্মক কৌশলে খেলাচ্ছি।’

কিশোরগঞ্জের এই সন্তানের কঠিন সময় গিয়েছিল আরামবাগের বিপক্ষে গত পরশু ম্যাচে। কার্ড সমস্যা, ইনজুরি আর বিশ্রামজনিত কারণে সুজন, রহমত, শান্ত, মোজাফফরভ, স্যামুয়েল বোয়েটাংদের খেলাতে পারেননি। এরপরও বাকিদের নিয়ে হালি গোলে জয়। এতে বড় ভূমিকা রাখেন স্ট্রাইকার সৌরভ দেওয়ান। করেছেন হ্যাটিট্রিক। সেন্টুর মতে, সৌরভ সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। সেটাই কাজে লাগিয়েছে।