লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত ৬ নতুন করে উচ্ছেদের হুমকি

Printed Edition
onno-2
লেবাননের টায়ারের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাস আল-আইন এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলার পর সেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে : ইন্টারনেট

আলজাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রেখে দক্ষিণ লেবাননের একটি বাড়িতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, সোমবার রাতে বৈরুত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে কাফার দুনিন এলাকায় একটি বাড়ি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আহত সাতজনকে উদ্ধার করে উপকূলীয় শহর টায়ারের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই লেবাননে হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলি বিমানবাহিনীর দাবি, তথাকথিত এই যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে তারা লেবাননের এক হাজার ১০০টিরও বেশি স্থানে হামলা চালিয়েছে। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, যুদ্ধবিরতি চলাকালেই এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮০ জন নিহত হয়েছেন। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি আক্রমণ ও বোমাবর্ষণে লেবাননে মোট নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবারও ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। নতুন করে বেশ কিছু এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে বেকা উপত্যকার সোহমোর এবং দক্ষিণ লেবাননের আরজুন, তাইর দেব্বা, বাজুরিয়েহ ও আল-হাউশ এলাকার বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছাড়ার হুমকি দিয়েছে। এ ছাড়া এনএনএ জানিয়েছে, দির মিমাস শহরের একটি পানি পাম্পিং স্টেশন উড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী এবং বিনত জবেইল এলাকায় বেশ কিছু ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এ দিকে লেবাননের নেতারা ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী বৈঠকের আগে ইসরাইলি হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে ইসরাইলি লঙ্ঘন বন্ধে চাপ দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্য দিকে হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের অস্ত্র নিয়ে কোনো আপস হবে না এবং এটি আলোচনার অংশ নয়। তিনি বলেন, লেবাননের বাইরে কারো অধিকার নেই তাদের অস্ত্র নিয়ে কথা বলার। এটি লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়। যত ত্যাগই স্বীকার করতে হোক না কেন, লেবানন ও এর জনগণকে রক্ষায় তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং মাঠ ছেড়ে যাবেন না।