শাবির হলে দখলদারি অবসানে ‘মেধাভিত্তিক’ আসন বণ্টন
Printed Edition
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দখলদারিত্ব, ক্ষমতাকেন্দ্রিক ‘বড় ভাই’ সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অবসান ঘটেছে গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের পর। শাহপরাণ হলে ২০৯ নম্বর কক্ষ দীর্ঘ ১১ বছর ধরে দখল করেছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি খলিলুর রহমান। তিনি ক্যাম্পাসে ‘মৎস্যখলিল’ বা ‘আদুভাই’ নামে পরিচিত ছিলেন। ২০১২-১৩ সেশনে ভর্তি হওয়া এই নেতা ২০২৪ সাল পর্যন্ত হল দখল করে একাই থাকতেন।
তার মতো আরো বহু নেতা বৈধ শিক্ষার্থীদের হয়রানি করে কক্ষ দখলে রেখেছিলেন। অভ্যুত্থানে সহিংসতা, হত্যা ও নাশকতার মামলায় কয়েকজন কারাবন্দী হওয়ার পর এই দখলদারিত্বের স্থায়ী অবসান ঘটে। গত বছরের ৯ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেধা ও দরিদ্র কোটা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের হলে আসন বরাদ্দ দেয়, যা হলে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খল চিত্র পাল্টে দেয়।
অভ্যুত্থানের আগে হলে গণরুমে থাকতে বাধ্য করা, র্যাগিং, সারারাত পরিচয় পর্ব, রাজনৈতিক মিছিলে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ, নেতাদের মাদকসেবন, ক্যান্টিন-ডাইনিংয়ে বিনা খরচে খাওয়া- এসব ছিল ছাত্রলীগের দৈনন্দিন কার্যক্রম। কাগজে-কলমে প্রশাসনিক নিয়োগ থাকলেও হল নিয়ন্ত্রণ করত ক্ষমতাবান ছাত্রনেতারা। অভ্যুত্থানের পর সেসব অনিয়ম বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস শুরু করে। বিজয় চব্বিশ হলের এক শিক্ষার্থী জানান, আগে গণরুমে থাকা, র্যাগিংয়ের শিকার হওয়া এবং সিঙ্গেল সিটে উঠতে নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করা বাধ্যতামূলক ছিল। এখন বিভাগভিত্তিক বরাদ্দ হওয়ায় আর রাজনৈতিক তদবির প্রয়োজন হয় না। সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী তাসলিমা খানম বলেন, রাজনৈতিক চাপ ও বাধ্যতামূলক মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেয়া ছিল বিরক্তিকর; এখন সেই সংস্কৃতি বদলে গেছে এবং হলে নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হয়েছে।
বিজয় চব্বিশ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: জামাল উদ্দিন নয়া দিগন্তকে জানান, বর্তমানে হলে শতভাগ শিক্ষার্থী বৈধভাবে থাকছেন। প্রথমে ৬০ শতাংশ মেধা এবং পরে ৪০ শতাংশ দরিদ্র, উপজাতি ও খেলোয়াড় কোটায় আসন দেয়া হয়। আগে ৫২৮ আসনের মধ্যে মাত্র ১১২টি বরাদ্দ ছিল, এখন সব আসন নিয়মের আওতায়। হলগুলো এখন মতাদর্শভেদে সব শিক্ষার্থীর সহাবস্থানের জায়গা হয়ে উঠেছে।
ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, শুরু থেকেই মেধা ও দারিদ্র্য বিবেচনায় আসন বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে, যা হলে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। ডাইনিং ও ক্যান্টিনের পরিবেশও উন্নত করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হলে এই সুষ্ঠু পরিবেশ ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।