শৈলকুপায় খাল খননের পেটে যাচ্ছে লাখো তালগাছ

Printed Edition
bangla-9
কেটে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সারি সারি তালগাছ : নয়া দিগন্ত

মফিজুল ইসলাম, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ)

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আট বছর আগে বজ্রপাত রোধের লক্ষ্যে রোপণ করা লক্ষাধিক তালগাছ এখন অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একটি খাল খনন প্রকল্পের কারণে এসব গাছ কেটে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে সেই শিক্ষার্থীরা; যারা একদিন পরম মমতায় এসব বীজ বুনেছিল।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে শৈলকুপার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওসমান গনি এক ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল এবং কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তার দুই ধার ও পাউবোর খালের পাড়ে লক্ষাধিক তালের বীজ রোপণ করে। গত আট বছরে সেই চারাগুলো বেশ বড় হয়ে দৃশ্যমান রূপ নিয়েছে, যা গ্রামীণ প্রকৃতিতে এক নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করেছে। সম্প্রতি শৈলকুপা উপজেলাব্যাপী খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের খননকাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এই খনন প্রক্রিয়ায় খালের পাড়ে থাকা তালগাছসহ বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছ উচ্ছেদের তালিকা করা হয়েছে। এতেই বিপত্তি বেঁধেছে। স্থানীয়দের দাবি, বজ্রপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এই গাছগুলো যখন ঢাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তখনই এগুলো উপড়ে ফেলা হচ্ছে।

শৈলকুপার বিজুলিয়া এলাকার স্কুলশিক্ষক ফিরোজ খান বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে এই গাছগুলো লাগিয়েছিল। খালের খনন জরুরি ঠিকই, কিন্তু পাড় বাঁধানো বা খননের নকশায় সামান্য পরিবর্তন আনলে এই উপকারী গাছগুলো রক্ষা করা সম্ভব। স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলছেন, দেশে যেখানে বড় গাছ বাঁচাতে মহাসড়কের নকশা পরিবর্তনের উদাহরণ রয়েছে, সেখানে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে বজ্রপাত রোধে কার্যকর এই গাছগুলো কেন ধ্বংস করা হবে?

পাউবোর কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, প্রকল্পের প্রয়োজনে কিছু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে জনদাবির মুখে গাছ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাফ কথা; যে উদ্যোগটি একসময় সারা দেশে মডেল হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল, সেটি যেন কোনোভাবেই বিফলে না যায়। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখেই যেন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।