বড়াইগ্রামে চালক ও ভালুকায় নারী নিহত
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সড়ক দুর্ঘটনায় নাটোরের বড়াইগ্রামে এক প্রাইভেট কারের চালক ও ময়মনসিংহের ভালুকায় এক নারী নিহত হয়েছেন।
বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের বড়াইগ্রামে মালবাহী ট্রাক ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাগর হোসেন (২৯) নামে একজন নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে উপজেলার পারকোল ব্রিজ এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাগর হোসেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার গোয়ালমারী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি প্রাইভেট কারের চালক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে পারকোল এলাকায় ময়মনসিংহ থেকে চুয়াডাঙ্গাগামী প্রাইভেট কারের (ঢাকা মেট্রো গ ২২৯২) সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো ট ১৮-৪৪৬৯) মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে প্রাইভেট কারের চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় প্রাইভেট কারের একজন যাত্রী আহত হয়েছেন।
ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের ভালুকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পারাপারের সময় প্রভাতী বনশ্রী পরিবহনের একটি বাসচাপায় ৪০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত নারী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার সিডস্টোর বাজার সংলগ্ন হবিরবাড়ী ইউনিয়ন সোনার বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ওই নারী মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ময়মনসিংহগামী দ্রুতগতির প্রভাতী বনশ্রী পরিবহনের (ঢাকা-মেট্রো ব : ১৫-৪৮৪০) বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই দুই তরুণ মোটরসাইকেলে পেছনে পেছনে দৌড়ে গিয়ে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ঘাতক বাসটিসহ এর চালক ও হেলপারকে আটক করেন। এ সময় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় আধা ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা ও ভরাডোবা হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতের লাশ উদ্ধার করে। পুলিশের হস্তক্ষেপে আধা ঘণ্টা পর মহাসড়কে পুনরায় যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
বুড়িচং (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিয়ামি হোটেলের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস প্রাইভেট কারটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রাইভেট কারে থাকা ছয়জনের মধ্যে ঘটনাস্থলেই চালক জামাল হোসেন (৫২) নিহত হন। গুরুতর আহত অন্যদের হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো চারজন মারা যান।
দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসন কুমিল্লার পক্ষ থেকে ময়নামতি হাইওয়ে থানায় গিয়ে নিহতদের স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করা হয়। এ সময় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সরকারের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির হোসেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বজনদের অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত আবেদন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।