মধ্যপ্রাচ্য সঙ্ঘাতে পরিবেশগত বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা

Printed Edition

আলজাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পরিবেশগত মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সশস্ত্র সঙ্ঘাতের পরিবেশগত দিক পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। তাদের মতে, ইতোমধ্যে দুই শতাধিক এমন ঘটনা ঘটেছে যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে এই অঞ্চলে পরিবেশগত ক্ষতির মাত্রা মূল্যায়ন করেছে দ্য কনফ্লিক্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অবজারভেটরি (সিইওবিএস)।

সংস্থাটি গত মঙ্গলবার জানায়, তারা ধারাবাহিকভাবে এমন কিছু দূষণের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছে যা মানুষ এবং বাস্তুতন্ত্রকে তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মুখে ফেলছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে এই প্রবণতা ব্যাপক পরিবেশগত ক্ষতির কারণ হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘২০২৬ সালের ১০ মার্চের মধ্যে আমরা ৩০০টির বেশি ঘটনা শনাক্ত করেছি, যার মধ্যে ২৩২টি ঘটনার পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছে।’

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক সামরিক স্থাপনায় দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব হামলায় সব বিপজ্জনক পদার্থ পুরোপুরি ধ্বংস হয় না, যা উল্টো বাড়তি দূষণ তৈরি করতে পারে।

‘সম্ভাব্য দূষণকারী পদার্থের মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, তেল, ভারী ধাতু, বিস্ফোরক যৌগ এবং পিএফএএস (পার-অ্যান্ড পলিফ্লরোঅ্যালকাইল সাবস্ট্যান্সেস)। এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ফলে ডাইঅক্সিন এবং ফুরান নির্গত হতে পারে।’ পিএফএএস পরিবেশের সঙ্গে সহজে মিশে যায় না বা ভাঙে না। এতে আরো বলা হয়, ইরানের বড় সামরিক স্থাপনাগুলোর বেশির ভাগই গ্রামাঞ্চলে বা মাটির নিচে অবস্থিত। এর ফলে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা কঠিন হলেও মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি কিছুটা কম হতে পারে।

অন্য দিকে ইরান, লেবানন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য স্থাপনাগুলো শহরের কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে সঙ্ঘাতের কারণে সৃষ্ট দূষক থেকে সাধারণ মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি অনেক বেশি। ইরান কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে এই অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। ওই হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ এক হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরাইল, জর্দান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো।