রোগের তালিকায় শীর্ষে উচ্চ রক্তচাপ ওষুধ সরবরাহে বরাদ্দ অপ্রতুল
সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫ এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে শীর্ষ ১০টি রোগের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। ওষুধের উৎপাদন ও সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এসসিডি কর্নারগুলোর জন্য ওষুধ সরবরাহে বাজেট বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল বলে বিভিন্ন বক্তারা অভিমতে জানিয়েছেন। এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয় ও বিপণন) মো: রিয়াদ আরেফিন বলেন, বর্তমানে বছরে এনসিডি কর্নারগুলোর ওষুধের জন্য বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা। এটা অপ্রতুল। তাদের চাহিদা ৫০০ কোটি টাকার মতো।
রাজধানীর বিএমএ ভবনে গতকাল ‘উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ : অগ্রগতি, বাধা এবং করণীয়’ শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এই আহ্বান জানানো হয়। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ২৮ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় উপস্থাপনা তুলে ধরেন, প্রজ্ঞার প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল। কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের হেড অব নিউজ অ্যান্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স জহিরুল আলম, জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের।
উপস্থাপনায় জানানো হয়, দেশে অসংক্রামক রোগ মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী হলেও, এই খাতে বাজেট বরাদ্দ খুবই সামান্য। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতে সরকারের মোট অর্থায়নের মধ্যে ৫ শতাংশেরও কম ব্যয় হয় অসংক্রামক রোগ সংক্রান্ত বাজেটে। এই সীমিত বরাদ্দ কার্যকরভাবে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। অন্য দিকে, বরাদ্দকৃত অর্থও যথাযথভাবে ব্যবহার হয় না। উচ্চ রক্তচাপের কোনো লক্ষণ নেই। এটাকে নীরব ঘাতকও বলা যায়। উচ্চ রক্তচাপ থেকে হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা ও অন্ধত্ব রোগের সৃষ্টি হয়। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য বলছে, বিশে^ বর্তমানে ১৪০ কোটি মানুষ এই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তের ৫২ শতাংশই জানে না এই সমস্যা তাদের আছে। আর চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে মাত্র ৩৯ শতাংশ এবং ১৬ শতাংশ নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে।
বক্তারা বলেন, তৃণমূলপর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সব কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান নিশ্চিত করা গেলে দেশে উচ্চ রক্তচাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সাথে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয়ও হ্রাস পাবে। উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে আহ্বান জানানো হয় কর্মশালায়।
কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ডা: গীতা রানী দেবী বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে উচ্চরক্তচাপের ওষুধ পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। পর্যায়ক্রমে আমরা সব কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পারব।
এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয় ও বিপণন) মো: রিয়াদ আরেফিন বলেন, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা আমাদের অন্যতম প্রধান একটি অগ্রাধিকার। আশা করি দ্রুতই আমরা সব কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারব।