লালমোহনে আমগাছে উঁকি দিচ্ছে মুকুল
Printed Edition
মাকসুদুর রহমান পারভেজ লালমোহন (ভোলা)
দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহন উপজেলায় গাছে গাছে ফুটতে শুরু করেছে আমের মুকুল। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলের বসতবাড়ির আঙিনা, সড়কের পাশ এবং বাগানজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের মোহনীয় সুবাস। বাতাসে ভেসে বেড়ানো এই মিষ্টি ঘ্রাণ যেন মধুমাসের আগমনী বার্তা দিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট ও মাঝারি আকারের আমগাছে তুলনামূলকভাবে বেশি মুকুল ফুটেছে। রুপালি, ল্যাংড়া, ফজলি, গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আমগাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। গাছের ডালপালাজুড়ে হলুদ-সবুজের মিশেলে তৈরি হয়েছে মনোরম দৃশ্য। বাগান মালিকদের চোখে এখন সম্ভাব্য ভালো ফলনের স্বপ্ন। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুল গজানো শুরু হয়েছে। তবে পুরোপুরি মুকুল ফুটতে আরো কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাগান মালিক মো: হোসেন জানান, তার মিশ্র ফল বাগানে সাত-আট জাতের আমের গাছ রয়েছে। গত বছর তিনি প্রায় তিন লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন। মুকুল আসার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই দমনে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো থাকলে এবারো ভালো ফলনের আশা করছি।’ একই এলাকার আলাউদ্দিন মিয়ার বাগানসহ উপজেলায় একাধিক ফলবাগান রয়েছে, যেখান থেকে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলা শহর ও রাজধানীতেও আম সরবরাহ করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু হাছনাঈন বলেন, ‘আমসহ বিভিন্ন ফলের ভালো উৎপাদনের জন্য বাগান মালিকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। রোগবালাই দমনে সময়মতো ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ফলনের সম্ভাবনা ভালো।’ এদিকে প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় থাকা দেশী আমগাছে মুকুল ফুটতে শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও প্রত্যাশা বেড়েছে। সবাই এখন তাকিয়ে আছেন একটি সমৃদ্ধ আম মৌসুমের দিকে।