আইসিই কার্যক্রমের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ

Printed Edition
Int-1
মিনেসোটায় আইসিই কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বিক্ষোভকারীদের মিছিল : ইন্টারনেট

আনাদোলু

অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে ‘আইসিই আউট’ নামে জাতীয় কর্মসূচিতে অংশ নেয়। লস অ্যাঞ্জেলেসে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আইসিই এজেন্টদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানে মিনেসোটায় দুই মার্কিন নাগরিক রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি আইসিই এজেন্টদের হাতে নিহত হওয়ার পর এ ক্ষোভ আরো বেড়েছে। একজন বিক্ষোভকারী স্থানীয় টেলিভিশনকে বলেন, আমি লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মেছি। আমার প্রতিবেশী, বন্ধু যারা এ শহর গড়ে তুলেছে তাদেরকে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমি চুপ করে থাকতে পারি না। বিক্ষোভকারীরা শুধু মিছিল নয়, কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাজ, স্কুল ও কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে ফেডারেল ভবনের সামনে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে আবর্জনা ও বোতল ছোড়ে। পুলিশ ভিড় নিয়ন্ত্রণে মরিচের ¯েপ্র ব্যবহার করে।

স্থানীয় নেতারা, যেমন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ব্র্যাড শেরম্যান ও লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিল সদস্য বব ব্লুমেনফিল্ড বিক্ষোভে যোগ দেন। তারা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি সমালোচনা করেন এবং পরিবর্তনের আহ্বান জানান। শেরম্যান বলেন, তিনি আশা করেন এ বিক্ষোভ প্রশাসনকে তাদের নীতি পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করবে। ব্লুমেনফিল্ড বলেন, আমরা যত জোরে সম্ভব এখানে এবং সারা দেশে আওয়াজ তুলছি। শত শত স্কুল শিক্ষার্থী ক্লাস বাদ দিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেয়। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও সাময়িকভাবে দোকান বন্ধ রাখে। একজন বিক্ষোভকারী বলেন, আন্দোলন তুষারগোলকের মতো বড় হচ্ছে। এটা দেখাচ্ছে আমরা তাদের চেয়ে বেশি। শুক্রবার রাতে মিনেসোটায় নিহত রেনে গুড, অ্যালেক্স প্রেটি ও অন্যদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি হয়। বিক্ষোভকারীরা আশা করছে, এ আন্দোলন ফেডারেল নেতাদের আইসিই অভিযানের সহিংসতা কমাতে চাপ সৃষ্টি করবে।

অরেগন অঙ্গরাজ্যের ইউজিন শহরে ফেডারেল ভবনের সামনে মার্কিন সেনা ভেটারানরা বিক্ষোভ করে। তারা আইসিই এজেন্টদের সহিংস আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। ‘ভেটারানস ফর পিস’ সংগঠনের সদস্যরা বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছেন। সহিংসতার জবাব শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে দেয়া হবে। সংগঠনের মুখপাত্র প্যাট ড্রিসকল বলেন, আমরা সহিংস নই, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছি। আমরা চুপ করে বসে থাকব না। তিনি আরো বলেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। আমাদের এক সাথে দাঁড়াতে হবে, এক সাথে সংগঠিত হতে হবে, কারণ অন্য কেউ আমাদের রক্ষা করবে না।