এনটিআরসিএ’র বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সুযোগ চান ৭৩৯ প্রার্থী
Printed Edition
- চার বছর বিলম্ব এবং করোনার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার দাবি
- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদ সম্মেলন ১৫ জুন
মানবিক বিবেচনায় এনটিআরসিএ কর্তৃক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শেষবারের মতো আবেদনের সুযোগ চান বঞ্চিত ৭৩৯ প্রার্থী। এ লক্ষ্যে আগামী ১৫ জুন সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করবেন তারা। ঐ দিন তারা তিনটি দাবিও সরকারের কাছে উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে। বঞ্চিত প্রার্থীরা জানান, শিক্ষা উপদেষ্টা, শিক্ষা সচিব এবং অতিরিক্ত সচিবের উপস্থিতিতে ১৭তম ব্যাচের নিয়োগ সুপারিশের লক্ষ্যে আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী সনদের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে করোনা মহামারীর বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার বিষয়টি মানবিক কারণেই বিবেচনার দাবি করবেন তারা। একই সাথে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছরের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে একটিবার আবেদনের সুযোগ দিয়ে বিশেষ বিজ্ঞপ্তির প্রজ্ঞাপন জারিরও আবেদন জানাবেন তারা। তাদের দাবি ১৭তম ব্যাচের মানবিক এই বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে।
এ ছাড়া এনটিআরসিএ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৫ এর প্রাপ্ত মতামত ও এনটিআরসিএ রূপরেখা বাস্তবায়ন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে। নিয়োগ বঞ্চিত এসব প্রার্থীরা জানান, বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে ২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এ পর্যন্ত মোট ১৭টি নিবন্ধন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এনটিআরসিএ এক বছরের পরীক্ষা ৪ বছরের বেশি সময় অতিবাহিত করার ফলে ১৭তম নিবন্ধনে ৭৩৯ জন ৩৫ ঊর্ধ্বে হওয়ায় পঞ্চম গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে পারেননি। তারা বলছেন আইনগত জটিলতা কেটে যাওয়ার পরও নিয়োগ দিতে অহেতুক গড়িমসি করা হচ্ছে। তারা আরো জানান, ১৭তম ব্যাচের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে করোনা মহামারি ও এনটিআরসিএ দাফতরিক কারণে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত ফলাফল পর্যন্ত মোট ৪ বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর। এমতাবস্থায় ১৭তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের নিমিত্তে পঞ্চম গণবিজ্ঞপ্তিতে তাদের বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে ওই সময়ক্ষেপণের (যা ৭৩৯ জন আওতার বাইরে ছিল) বিষয়টি বিবেচনায় গ্রহণ করা হয়নি। অথচ সনদের মেয়াদ তিন বছর থাকা সত্ত্বেও একবার আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়নি। এ ছাড়া এনটিআরসিএ করোনার প্রকৃত ভুক্তভোগীর বিষয়টি বিবেচনা করে ১৭তম আবেদনবঞ্চিতরা গত বছরের ১৪ মার্চ ও ৭ আগষ্ট বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য এনটিআরসিএ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আবার আইনি জটিলতা সাপেক্ষে শিক্ষা উপদেষ্টার সম্মতিক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠায়। পরবর্তী সময়ে আইন ও বিচার বিভাগের মতামত অনুবিভাগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আবার নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে গত ২৭ মার্চ এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ থেকে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির ব্যাপারে রূপরেখা চায়। কিন্তু আইনি মতামতে উল্লেখ আছে যে, আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী সনদের মেয়াদ ৩ বছর থাকা সাপেক্ষে এবং করোনা মহামারীর মতো পারিপার্শ্বিক বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ ১৭ ব্যাচের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কোনো তারিখে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ নির্ধারিত হবে, সে বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।
এ বিষয়ে ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের সমন্বয়কারী জমির উদ্দীন এই প্রতিবেদককে বলেন, আইনি মতামত থাকা সাপেক্ষেও এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান করোনার প্রকৃত ভুক্তভোগী ১৭তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছে না, বরং বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাদের যুক্তিসঙ্গত বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ তাদের কোনো মামলা পেন্ডিং নেই। ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের অপর একজন সমন্বয়কারী ইউছুফ ইমন বলেন, এনটিআরসিএর সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ হিল আজিম দুবার করোনাকালীন বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এমনকি প্রস্তাবনার আলোকে আইন, বিচার সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৫ আমাদের পক্ষে মতামত প্রদান করেছে।
এনটিআরসিএ গত বছরের গত ৩১ মার্চ প্রকাশিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯৬ হাজার ৭৩৬টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের পঞ্চম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ হাজারেরও কম প্রার্থী আবেদন করে। এতে এনটিআরসিএ প্রাথমিকভাবে সুপারিশ করেছে ২২ হাজারের কিছু বেশি প্রার্থীকে। আর বঞ্চিত হয়েছেন ৭৩৯ শিক্ষক নিবন্ধনধারী। এনটিআরসিএ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় প্রার্থীর বয়স নির্ধারণ করা হয় ৩৫ এবং সনদের মেয়াদ ৩ বছর। কিন্তু এনটিআরসিএ প্রত্যেক বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের বয়সসীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো তারিখে সর্বোচ্চ বয়স গণ্য করা হবে, তা যুক্তিসঙ্গত বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল হয়েছে এবং বয়সেরও ছাড় দিয়েছে। কিন্তু ১৭তম বিনন্ধনধারীদের ক্ষেত্রে বয়সের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হবে না কেন?