নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ স্লোগানে বৈশাখী উৎসব উদযাপিত
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
এবারের বৈশাখী উৎসবের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। এ প্রতিপাদ্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে সময়ের প্রেক্ষাপট, মানুষের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন। সাম্প্রতিক জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে দীর্ঘ দিনের এক ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে- এমন একটি রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবারের নববর্ষ উদযাপন একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে প্রথমবারের মতো গত মঙ্গলবার সারা দেশে উদযাপিত হলো বাংলা নববর্ষ।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ৭টায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সামনে থেকে শোভাযাত্রা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিশু একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। এতে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ এবং জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
রাবি প্রতিনিধি জানান, বাঙালির আবহমান কালের অন্যতম উৎসব পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা। বাংলা নববর্ষের ইতিহাস, গ্রামীণ চিরায়ত জীবনধারা ও মুসলিম ঐতিহ্য নিয়ে আয়োজন করা হয় ‘নববর্ষ প্রদর্শনী উৎসব’। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ প্রদর্শনী উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজীব বলেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলা নববর্ষের ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি গ্রামীণ চিরায়ত জীবনধারা ও মুসলিম ঐতিহ্যের বিভিন্ন উপাদান উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি।
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বৈশাখীমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রূপ নেয় এক বর্ণিল মিলনমেলায়, যেখানে আনন্দ, ঐতিহ্য আর মানুষের উচ্ছ্বাস মিশে তৈরি করে এক অভূতপূর্ব আবহ। সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ থাকলেও বিকেলের দিকে তা ছাড়িয়ে যায় সব প্রত্যাশা। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ নোয়াখালীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে মুখর।
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বর্ষবরণ উদযাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে র্যালি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ভট্টপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।
ডুমুরিয়া (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, ডুমুরিয়ার শাহপুর বাজার বটমূলে গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ বর্ণাঢ্য আয়োজনে বর্ষবরণ পালন করে। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন গাঙচিলের কেন্দ্রীয় প্রধান নির্বাহী উপদেষ্টা অ্যামেরিটাস প্রফেসর ডা: শেখ ইউনুস আলী। প্রধান বক্তা ছিলেন শাহপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলাম বাবলু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বর্ষবরণ উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব আনোয়ার হোসেন আকুঞ্জি ও শিল্পী গৌরাঙ্গ বিশ্বাস।
রানীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, নওগাঁর রানীনগরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন করা হয়েছে। রানীনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন অনুষ্ঠানে শামিল হয়। শোভাযাত্রায় নওগাঁ-৬ আসনের এমপি এস এম রেজাউল ইসলাম রেজু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন, রানীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মণ্ডল, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশ নেয়।
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, সাভার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রায় সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে উদযাপিত হয়েছে বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ। ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ উৎসব পালিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ্ নূরজাহান আক্তার সাথী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী থানার ওসি নূরুস সালাম সিদ্দিকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা।
চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, চাটমোহর উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্ষবরণে নানা আয়োজন করে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। নেতৃত্ব দেন উপজেল নির্বাহী অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী। শোভাযাত্রায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, পঞ্চগড়ে বাংলা নববর্ষক উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা কালেক্টরেট চত্বর থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। জেলা প্রশাসক মোসা: শুকরিয়া পারভীনের নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি জেলা সরকারি অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।