রাজনীতি নয় ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করুন : প্রধানমন্ত্রী
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে মোট ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বিশেষ সম্মাননা ও অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এখন থেকে তালিকাভুক্ত ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদেরও এই সম্মানী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
পুরস্কারের হিসাবে একক পর্যায়ে স্বর্ণজয়ীরা ৩ লাখ, রৌপ্যজয়ীরা ২ লাখ এবং ব্রোঞ্জজয়ীরা ১ লাখ টাকা করে পেয়েছেন। দলগত সাফল্যের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক যথাক্রমে ২ লাখ, ১.৫ লাখ ও ১ লাখ টাকা। প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই অঙ্গীকার নিয়ে আমরা ক্রীড়াঙ্গনকে আমূল বদলে দিতে চাই।’ তিনি প্রতিটি জেলায় আন্তর্জাতিক মানের ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ এবং প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।
তারেক রহমান আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোর দিকে আমাদের লক্ষ্য থাকবে। আমাদের ছেলেমেয়েরা যে দেশের জন্য সম্মান বয়ে নিয়ে আসতে পারে, সেটা তারা প্রমাণ করেছে। ইনশা আল্লাহ আগামী দিনেও এটা অব্যাহত থাকবে। কথা বলার অনেক কিছুই আছে। আমার মনে হয় কথা কম কাজ বেশি করতে হবে। কথা কম, খেলতে হবে বেশি। দেশপ্রেম, দৃঢ় ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে সাফল্যের পথে কেউ বাধা হতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।’
প্রধানমন্ত্রী খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পেশাদার খেলোয়াড়ী জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর নয় বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করুন। দেশে বিদেশে বিজয়মাল্য বরণ করে বিশ্ব ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখুন। দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে আপনাদের সাফল্যজনক অগ্রযাত্রায় কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে বেতনকাঠামোর আওতায় আনা হবে। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বসিত বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়েরা। তারা বলছেন, এ উদ্যোগের ফলে খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যে যেমন প্রতিযোগিতা হবে, একইভাবে সবাই চাইবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভালো করতে। আর্থিক এই নিরাপত্তা খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ কমিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে আরো উঁচুতে তুলে ধরবে, এমনটাই এখন দেশের ক্রীড়াবিদদের প্রত্যাশা।