রংপুরে বিআরটিসি বাসে তিনগুণ ভাড়া আদায়

অবরোধ ভাঙচুর বিক্ষোভ

Printed Edition
3rd-5
রংপুরে বিআরটিসির ডিপোর পরিচালকের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদাায়ের অভিযোগে অবরোধ ও বিক্ষোভ : নয়া দিগন্ত

রংপুর ব্যুরো

বিআরটিসিসহ অন্যান্য বাসে তিনগুণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে রংপুর বিভাগের গেটওয়ে মডার্ন মোড়ে অবরোধ, ভাঙচুর এবং বিক্ষোভ করে রাখে হাজার হাজার যাত্রী। এ সময়ে দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যায়। এক ঘণ্টা ঢাকার সাথে রংপুর বিভাগের সাত জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, বিআরটিসি রংপুর বিভাগীয় ডিপোর পরিচালকের গড়া সিন্ডিকেট এরই মধ্যে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মাধ্যমে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় নগরীর মডার্ন মোড়ে অবরোধ গড়ে তোলেন যাত্রীরা। এ সময় বেশ কিছু গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে মাইকিং করে বলতে শোনা যায়, বিআরটিসি বাস সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে অবরোধ চলাকালে রাত ১১টায় সেখানে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো: সাহানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি টিম। পরে বিক্ষুব্ধ যাত্রীদের সরকার নির্ধারিত ৮৭০ টাকা ভাড়ায় যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলে রাত সোয়া ১১টায় তারা অবরোধ তুলে দেন।

আলিমুল ইসলাম মাহজাবিন আলম, কামরুল ইসলামসহ অন্তত ১০ জন অবরোধকারীর অভিযোগ, ঢাকা পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত ৮৭০ টাকার ভাড়া বিআরটিসিসহ বিভিন্ন বাস ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছিল।

সকাল থেকে এ নিয়ে উত্তেজনা চলছিল মডার্ন মোড় এলাকায়। সেই উত্তেজনা পরে ক্ষোভে পরিণত হয়। এ কারণে তারা নির্ধারিত ভাড়ায় যাওয়ার জন্য অবরোধে নামতে বাধ্য হন। কারী একরামুল ইসলাম, সঞ্জীব রায়, আব্দুল ওয়াদুদের অভিযোগ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলেও তারা নির্বিকার। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমরা যে ইনকাম করি।

তাতে এত ভাড়া দিয়ে ঢাকা গিয়ে আমাদের সংসার চালানো সম্ভব নয়। তারা আরো অভিযোগ করেন, বিআরটিসি এবং ব্রান্ড ও লোকাল বাস মালিকরা সিন্ডিকেট করে এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। কিন্তু প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

সূত্র বলছে, ‘রংপুর বিভাগীয় বিআরটিসির পরিচালক পারকন চৌধুরী এবং কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঈদে অতিরিক্ত তিনগুণ ভাড়া নিয়ে এরই মধ্যে ঈদ উপলক্ষে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হলেও তারা অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া অব্যাহত রেখেছেন। এতে যেমন যাত্রীদের অসন্তোষ বেড়েছে।

ঠিক তেমনি সরকারেরও ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রটি আরো জানিয়েছে, এরই মধ্যে সিন্ডিকেটের বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে।’