টক দইয়ের সাথে চিনি নয়

Printed Edition

টক দই অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর। এর স্বাদ কিছুটা টক হওয়ায় অনেকেই এতে চিনি বা লবণ মেশান। কেউ কেউ মিষ্টি লাচ্ছি বা নোনতা রায়তা বানিয়েও খান। টক দইয়ের সাথে চিনি বা লবণ মিশিয়ে খাওয়ার এ অভ্যাস উপকারের বদলে ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় টক দই প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার। এর অর্থ হলো, দইয়ের মধ্যে কোটি কোটি জীবন্ত ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা পাকস্থলী ও অন্ত্রের পরিপাক ক্রিয়াকে সচল রাখে এবং খাবার সহজে হজম করতে সাহায্য করে। কিন্তু যখনই এতে চিনি বা লবণ মেশানো হয়, তখনই এর ভেতরের মূল রাসায়নিক গঠন ও পুষ্টিগুণে বদল আসে।

চিনি মেশালে কী ক্ষতি : টক দইয়ে চিনি মেশালে তা দইয়ের প্রাকৃতিক গুণাগুণকে প্রায় নষ্ট করে দেয়। এ ছাড়া উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়। অতিরিক্ত চিনি দইয়ের অম্লতা বা পিএইচ মাত্রার পরিবর্তন ঘটায়। এর ফলে দইয়ে থাকা উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে বা মারা যায়। ফলস্বরূপ, দই খেয়েও পেটের হজমশক্তির কোনো উন্নতি হয় না।

টক দই এমনিতে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য খুব ভালো। কিন্তু এতে চিনি মেশালে এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

চিনি মেশানো দই ক্যালোরির পরিমাণ বহুগুণ বাড়ায়। এই অতিরিক্ত ‘এম্পটি ক্যালোরি’ শরীরে প্রবেশ করে মেদ বা চর্বি হিসেবে জমা হয়, যা স্থূলতার অন্যতম প্রধান কারণ।

লবণ মেশালে কী সমস্যা : লবণের মূল উপাদান হলো সোডিয়াম। টক দইয়ে প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা সোডিয়াম থাকে। তার ওপর অতিরিক্ত লবণ বা বিট লবণ মেশালে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা অনেকটা বেড়ে যায়। এটি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র এবং আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান উভয়ের মতেই, দই ও নুনের মিশ্রণ পাকস্থলীতে গিয়ে পরিপাক রসকে পাতলা করে দেয়। এর ফলে বদহজম, বুক জ্বালা এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দই খাওয়ার সঠিক নিয়ম : চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, টক দইয়ের ১০০ শতাংশ পুষ্টি পেতে সম্পূর্ণ সাদা বা প্রাকৃতিক অবস্থায় খাওয়া উচিত। কোনো কিছু না মিশিয়ে দইয়ের নিজস্ব টক স্বাদ উপভোগ করাই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে যারা একদমই সাদা টক দই খেতে পারেন না, তারা স্বাদের বদল ঘটাতে দইয়ের সাথে মধু মেশাতে পারেন। চাইলে দইয়ের সাথে আপেল, বেদানা, কলা বা স্ট্রবেরির মতো মিষ্টি ফল মেশাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ফলগুলো ছোট ছোট করে কেটে মিশিয়ে ‘ফ্রুট সালাদ’ বানিয়ে খেতে পারেন। এতে দইয়ের টক ভাব কেটে যাবে এবং ফলের পুষ্টিও মিলবে। ইন্টারনেট।