যেভাবে সত্যজিৎ রায়ের ‘অনঙ্গ বউ’ হয়ে উঠেছিলেন ববিতা

তেতাল্লিশের মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমায় ববিতার স্বাভাবিক বাচনভঙ্গি ও ব্যক্তিত্বই তাকে কালজয়ী করে তোলে

Printed Edition
bino-2
যেভাবে সত্যজিৎ রায়ের ‘অনঙ্গ বউ’ হয়ে উঠেছিলেন ববিতা

বিনোদন প্রতিবেদক

কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি অভিনেত্রী ববিতা। তিনি ভেবেছিলেন, কোনো ভক্ত হয়তো দুষ্টুমি করে চিঠি পাঠিয়েছে। ‘অশনি সঙ্কেত’ সিনেমায় অভিনয়ের সেই অমলিন স্মৃতি হাতড়েই বিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ববিতা শুনিয়েছেন তার ‘অনঙ্গ বউ’ হয়ে ওঠার গল্প।

ববিতা বলেন, ‘তখন আমরা গেণ্ডারিয়ার বাসায় থাকতাম। একদিন এক চিঠিতে জানানো হয়, সত্যজিৎ রায় তার সিনেমায় আমাকে নেয়ার কথা ভাবছেন। আমি ভেবেছিলাম কোনো ভক্ত দুষ্টুমি করছে। সত্যজিৎ রায়ের মতো মানুষ জয়া ভাদুড়ি বা শর্মিলা ঠাকুরের মতো বড় অভিনেত্রীদের রেখে আমাকে কেন ডাকবেন?’ শুরুতে গুরুত্ব না দিলেও পরে ভারতীয় হাই-কমিশন থেকে যোগাযোগ করা হলে ববিতা বড় বোন সুচন্দাকে নিয়ে কলকাতায় যান।

প্রথম সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা ছিল বেশ চমকপ্রদ। ববিতা তখন বেশ সাজগোজ করে সত্যজিৎ রায়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে দেখামাত্রই পরিচালক বলে ওঠেন, ‘একি! তুমি এত মেকআপ নিয়ে এসেছ কেন? আমি তো তোমাকে এই মেকআপে দেখতে চাইনি!’ পরিচালকের এমন মন্তব্যে ববিতা ভীষণ লজ্জা পেয়েছিলেন। সে সময় তার অভিনয় নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করে সত্যজিৎ রায় তাকে স্ক্রিন টেস্ট দিতে বলেন।

পরদিন ইন্দ্রপুরী স্টুডিওতে আটপৌরে শাড়ি আর সিঁথিতে সিঁদুর পরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান ববিতা। এবার তাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে সত্যজিৎ রায় বলেন, ‘ওমা! মেকআপ ছাড়াই তো তুমি দারুণ সুন্দর!’ স্ক্রিন টেস্ট শেষে আপ্লুত পরিচালক চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘ইউরেকা! পেয়ে গেছি! আমি আমার অনঙ্গ বউকে পেয়ে গেছি!’

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৭৩ সালে মুক্তি পায় ‘অশনি সঙ্কেত’। তেতাল্লিশের মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমায় ববিতার স্বাভাবিক বাচনভঙ্গি ও ব্যক্তিত্বই তাকে কালজয়ী করে তোলে।

গত ২ মে ছিল, বিশ্ববরেণ্য এই নির্মাতার জন্মদিন। ১৯২১ সালে জন্ম নেয়া এই ধ্রুবতারা ১৯৯২ সালে মৃত্যুর আগে অস্কার সম্মাননায় ভূষিত হন। ‘পথের পাঁচালী’ থেকে ‘অশনি সঙ্কেত’-প্রতিটি সৃষ্টির মাধ্যমেই তিনি বিশ্ব চলচ্চিত্রে অম্লান হয়ে আছেন।