শিক্ষামন্ত্রীর সাথে জামায়াতের শিক্ষা বিভাগের নেতাদের মতবিনিময়
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা বিভাগের কেন্দ্রীয় নেতারা মতবিনিময় করেছেন। গতকাল বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে শিক্ষামন্ত্রীর অফিসে এই মতবিনিময় করেন তারা। সভায় অধ্যাপক মুুজিবুর রহমান বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সমস্যা সমাধানে কয়েকটি দাবি নিয়ে আলোচনা করেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে : (১) শিক্ষক কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ (২) জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত শতভাগ উৎসব বোনাস সরকারি নিয়মে বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা দেয়া। (৩) অবসর ভাতা ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরের ছয় মাসের মধ্যে তাদের হাতে তুলে দেয়া (৪) সচল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (ইবতেদায়ি মাদরাসাসহ) এমপিওভুক্তির গেজেট প্রকাশ করে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা।
এ সময় ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ শিক্ষক-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের ২০ দফা দাবি সম্বলিত দাবিনামা শিক্ষামন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এ ছাড়াও মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক এবিএম ফজুলল করীম বলেন, বিগত ১৬ বছরে অনেক শিক্ষককে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থন করার কারণে অন্যায়ভাবে ফ্যাসিস্ট সরকার চাকরিচ্যুত বা বরখাস্ত করেছিলো। তাদের কেউ ২, ৪, ৫ এমনকি ১৬ বছর পর্যন্ত বকেয়া বেতন-ভাতা পায়নি। এদের মধ্যে কেউ মারা গেছেন, কেউ অবসরে গেছেন। আবার কেউ চাকরিতে বহাল হয়েছেন; কিন্তু অনেকেই তাদের সাসপেন্ড বা বরখাস্তের সময়ের কোনো বকেয়া বেতন-ভাতা এখনো পাননি। সেই বকেয়া বেতন-ভাতা অতিদ্রুত দেয়ার জন্য সরকারের কাছে তিনি জোর দাবি জানান। একই সাথে তিনি সৎ ও যোগ্য শিক্ষকদের সমন্বয়ে অবিলম্বে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেন।
শিক্ষক নেতাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনার পর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীরদের চাকরি জাতীয়করণের কাজ চলমান রয়েছে এবং উৎসব ভাতা আরো ১০% বাড়ানো হয়েছে। অবসর সুবিধা ভাতা ও কল্যাণ ফান্ডের অর্থ যাতে দ্রুত সময়ে পেতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া তিনি উত্থাপিত সব দাবি পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রফেসর ড. এম কোরবান আলী, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি প্রফেসর ড. উমার আলী, প্রফেসর ড. ইলিয়াস মোল্লা এমপি, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক মো: রবিউল ইসলাম, কারিগরি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল আজিজ, মাসুদ সাঈদী এমপি, শিক্ষাসচিব আব্দুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।