তাড়াশে টিসিবির পণ্য কালোবাজারে বিক্রি
Printed Edition
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক ডিলারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো: আব্দুল খালেক নামে এক ব্যক্তি টিসিবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের তীর উপজেলার জাহাঙ্গীরগাতী গ্রামের বাসিন্দা ও মেসার্স রুখসানা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো: আবু হাসানের দিকে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে কিছু লোক তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো: আবু হাসান নিজের প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ছেলে মাসুদ রানার নামে ‘ মেসার্স আব্দুল্লাহ ট্রেডার্স’ এবং মেয়ের নামে ‘রুপসা ট্রেডার্স’ নামে আরো দু’টি লাইসেন্স নেন। একই পরিবারের তিনটি লাইসেন্সের আওতায় পাওয়া টিসিবির পণ্য তিনি নিজের বাড়িতে মজুদ রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টিসিবির ডিলারশিপ পেতে হলে নির্দিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গুদাম থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তদের নামে এমন কোনো গুদাম বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব এলাকায় পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনকে প্রভাবিত করে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামতো পণ্য বিতরণ এবং অবশিষ্ট পণ্য কালোবাজারে বিক্রি করেন।
গত ৯ মার্চ জাহাঙ্গীরগাতী বাজারে মেসার্স রুখসানা ট্রেডার্সের মাধ্যমে টিসিবির ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রির কথা থাকলেও তা বিতরণ করা হয়নি। পরে অভিযোগকারী ও কয়েকজন এলাকাবাসী জানতে পারেন, পাশের রায়গঞ্জ উপজেলার পুল্লাগ্রাম এলাকার একটি বাড়িতে টিসিবির পণ্য মজুদ রেখে কালোবাজারে বিক্রির প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি রায়গঞ্জ থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু পণ্য জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে আবু হাসান পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। অভিযোগকারী মো: আব্দুল খালেক বলেন, অভিযোগ করার পর থেকে আবু হাসান তাকে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন। একই পরিবারের নামে তিনটি লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে পণ্য কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযুক্ত ডিলার মো: আবু হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। পণ্য জব্দের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আর কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে টিসিবির বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মো: সাদ্দাম হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ এখনো তার দফতরে পৌঁছায়নি। তবে ফোনে অভিযোগ পাওয়ার পর তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।