আদমদীঘিতে অপহৃত ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার আটক ২
Printed Edition
আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা
শোরুম থেকে অস্ত্রের মুখে অপহৃত ব্যবসায়ী পিন্টু আকন্দের (৩৫) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণের প্রায় ছয় ঘণ্টা পর গত সোমবার রাত ৩টার দিকে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার কোমারভোগ এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পিন্টু আকন্দ নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার লোহাচুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সিও অফিস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত ‘লোটো’ শোরুমের স্বত্বাধিকারী ছিলেন।
পুলিশ ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৯টা ৮ মিনিটে একটি সাদা রঙের হায়েস মাইক্রোবাসে করে মুখ ঢাকা চারজন দুর্বৃত্ত পিন্টু আকন্দের শোরুমে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের একজন পিন্টু আকন্দের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে আনে। পরে বাকিরা মিলে তাকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নেয় এবং বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পিন্টু নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নামে। পরে রাত ৩টার দিকে আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের কোমারভোগ গ্রামের একটি রাস্তার পাশে লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধারের পর পরিচয় নিশ্চিত হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অপহরণের পর পিন্টু আকন্দকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর লাশ সেখানে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তৎপর রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন ওসি।
এ দিকে পিন্টুকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় দুপচাঁচিয়া উপজেলা ও তার গ্রামের বাড়ি রাণীনগরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।