নিকলীর জারইতলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিার মানে ধস, সঙ্কটে ভবিষ্যৎ
Printed Edition
আলি জামশেদ বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জারইতলা স্কুল অ্যান্ড কলেজটি এখন নানা সঙ্কট, অব্যবস্থাপনা ও শিার মানের অবনতিতে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। ১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিা প্রতিষ্ঠানটি এক সময়ের সেরা ফলাফলের জন্য পরিচিত ছিল। বর্তমানে শিক সঙ্কট, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ শিাবর্ষে এসএসসি পরীায় পাসের হার নেমে এসেছে প্রায় ৩১ শতাংশে। কলেজ শাখায় এই হার আরো হতাশাব্যঞ্জক, প্রায় ১১ শতাংশ। চলতি বছরে মানবিক ও বাণিজ্য শাখা মিলিয়ে কলেজে শিার্থী রয়েছে মাত্র ১৩ জন। অথচ এক সময় এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় শতভাগ পাসের নজির ছিল।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক সঙ্কট। কলেজে এখন পর্যন্ত এনটিআরসিএর মাধ্যমে কোনো শিক নিয়োগ হয়নি। এমপিওভুক্ত শিক রয়েছেন ১৫ জন এবং খণ্ডকালীন পাঁচজন। কলেজে রূপান্তরের পরও পর্যাপ্ত শিক নিয়োগ না হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। খণ্ডকালীন শিকদের দিয়ে অনিয়মিত কাস নেয়ায় শিার মানে প্রভাব পড়ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক বেলায়েত হোসেন বাদল এবং বিভিন্ন সময়ের ম্যানেজিং কমিটির অদতা ও অনিয়মই প্রতিষ্ঠানের এই অবনতির মূল কারণ। অতিরিক্ত বেতন আদায়, খণ্ডকালীন ও স্বজনপ্রীতির ভিত্তিতে শিক নিয়োগসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি দীর্ঘদিন কার্যকর কমিটি না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ গত ২৮ মার্চ কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি কমিটিশূন্য অবস্থায় রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় প্রতিষ্ঠানের প্রতি যথাযথ মনোযোগ দিতে পারছেন না। অতীতে ম্যানেজিং কমিটি কেন্দ্রিক সংঘর্ষ, এমনকি গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
অন্য দিকে শিার্থী সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। ২০১৯ সালে যেখানে শিার্থী ছিল প্রায় এক হাজার ৪৫০ জন, বর্তমানে তা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮১৫ জনে। স্থানীয়দের মতে, আশপাশে কওমি মাদরাসা ও কিন্ডারগার্টেনের প্রসার এবং প্রতিষ্ঠানের মান অবনতির কারণেই শিার্থীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
প্রধান শিক বেলায়েত হোসেন বাদল বলেন, অতীতে কিছু জমি সংক্রান্ত মামলা থাকলেও বর্তমানে তা নেই। তিনি জানান, অর্থনৈতিক সঙ্কট ও এনটিআরসির শর্ত পূরণে ব্যর্থতার কারণে শিক নিয়োগে সমস্যা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তি বলেন, চলমান এসএসসি পরীায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে তদারকি করা হচ্ছে।
পাশাপাশি জারইতলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সার্বিক অবস্থা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করার কথাও জানান।
সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত শিক নিয়োগ, প্রশাসনিক সংস্কার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে শতবর্ষের এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি আরো অবনতির মুখে পড়তে পারে।