ঢাকা ওয়াসার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ সমস্যা দীর্ঘদিনের। এই সমস্যার যেন সমাধানই হয় না। গতকাল একটি সহযোগী দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- রাজধানীর জুরাইন, কল্যাণপুর, মানিকনগর, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, কুতুবখালী, শনির আখড়া, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, মালিবাগ, মগবাজার, মধুবাগ, বাসাবো, খিলগাঁও, শ্যামপুর, আজিমপুর, লালবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার ময়লা, পোকামাকড় ও দুর্গন্ধযুদ্ধ পানি যাচ্ছে। ওয়াসার এই পানি ফুটিয়েও পানযোগ্য করা যাচ্ছে না। তারপরও বাধ্য হয়ে এই পানি দিয়ে রান্না, গোসল, খাওয়াসহ দৈনন্দিন কাজ সারছেন। আর এতে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। গত দুই মাস ধরে ওয়াসায় এ বিষয়ে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ওয়াসার কয়েকজন কর্মকর্তার সন্দেহ, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগারে কোনো সমস্যা থেকে এটি ঘটতে পারে।

নিরাপদ সুপেয় পানি পাওয়াকে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন উচ্চ আদালত। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ঢাকায় দুই কোটির ওপরে মানুষের বসবাস। কিন্তু এত বিশাল সংখ্যক মানুষ ওয়াসার সরবরাহ করা পানি না ফুটিয়ে পান করতে পারে না। যা দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওয়াসার ব্যর্থতা।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি ৯১ শতাংশ গ্রাহকই ফুটিয়ে পান করেন। আর এই পানি ফোটাতে বছরে ব্যয় হচ্ছে ৩৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার গ্যাস। ঢাকা ওয়াসার গ্রাহকদের ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ বলছেন, পানি অপরিষ্কার, ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ গ্রাহক পানিতে দুর্গন্ধ থাকার কথা বলেছেন। আর ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ গ্রাহক বলছেন, সারা বছরই পানি অপরিষ্কার ও দুর্গন্ধযুক্ত থাকে।

ঢাকার ওয়াসার এমন দুর্গন্ধ ও ময়লাযুক্ত দূষিত পানির অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হয়- ওয়াসার প্রযুক্তিগত দুর্বলতা ও পানির লাইনের অবৈধ সংযোগ। কিন্তু ওয়াসা তাদের প্রযুক্তিগত এসব দুর্বলতা কবে কাটিয়ে উঠে মানুষকে নিরাপদ পানি সরবরাহে সক্ষম হবে? দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা বিঘ্নিত করে জনগণকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেই সেবা নিতে বাধ্য করার একটি পুরনো অভিযোগ রয়েছে। ঢাকায় দিনের পর দিন ওয়াসা এমন দূষিত পানি সরবরাহ করে নাগরিকদের বোতলজাত পানি কিনতে কি বাধ্য করছে? ঢাকায় বোতলজাত পানির চাহিদা অত্যধিক। বোতলজাত পানির ব্যবসায় দিন দিন শুধু বাড়ছে। এ ছাড়াও নিরাপদ পানির জন্য অন্যান্য প্রযুক্তি কেনার হারও কম নয়। ফিল্টারের পানির ব্যবসায় তো রয়েছেই। এ ছাড়াও উচ্চ অভিজাত শ্রেণীর কিছু মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি আমদানিও করা হয়। আর এসবই সম্ভব হয়েছে ওয়াসার বিশুদ্ধ নিরাপদ পানি সরবরাহ করতে না পারার জন্য। অবৈধ পানির লাইনের সংযোগ ওয়াসাকেই বন্ধ করতে হবে। হিসাব মতে, ওয়াসার পানি সরাসরি পান করতে পারার কথা। উন্নত দেশগুলোতে তা দেখা যায়। এশিয়াতেও এই বাস্তবতা বিদ্যমান। কিন্তু ঢাকায় আমরা তা পারি না। ওয়াসাকে ঢাকাবাসীর জন্য বিশুদ্ধ নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা দিতে হবে। এ জন্য যত প্রতিবন্ধকতা আছে তা দূর করতে হবে।