হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা জটিলতা দেখা যাচ্ছে। কিছু সমস্যা সৌদি সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট। কিন্তু অভ্যন্তরীণ সমস্যাও কম নয়। সৌদি সরকার প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী পাঠানোর সুযোগ দেয়। গত কয়েক বছর সে কোটা পূরণ হচ্ছে না। ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় হজযাত্রী কমে গেছে। নয়া দিগন্তসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার খবরে জানা যায়, সৌদি সরকার প্রতি বছর নানা খাতে ফি বাড়িয়ে দেয়। এতে হজের খরচ বাড়ে। আবার হজ করতে গিয়ে দেশে এবং সৌদিতে নানা হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হন হজযাত্রীরা।
বাংলাদেশ বিমানের অন্যায্য বিমান ভাড়াও হজের ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। যেখানে ৯৮ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় হাজী পরিবহনে একাধিক বিমান সংস্থা প্রস্তুত সেখানে বাংলাদেশ বিমান নিচ্ছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। আওয়ামী দুঃশাসনে তা প্রায় দুই লাখ টাকায় উঠেছিল। হাজীদের শোষণ করার এ এক রাষ্ট্রীয় আয়োজন। বিমানের ব্যবস্থাপনার ব্যয় বেশি বলে হাজীদের কাঁধে এ দায় চাপানো হবে কেন? অন্যরা এক লাখ টাকায় হাজী বহন করতে পারলে বিমানকেও পারতে হবে। না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে। হাজীদের শোষণ করতে পারে না।
সৌদিতে এয়ারপোর্ট চার্জ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। বিপুল অর্থ গচ্চা যায় হাজীদের। এদিকে দেশে আছে অশুভ সিন্ডিকেট। কিছু হজ এজেন্সি জোট বেঁধে পুরো হজ ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা করে। এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় এমন ৩০টি এজেন্সির সিন্ডিকেট সক্রিয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিন্ডিকেট থাকলে হাজীদের স্বচ্ছন্দে হজ সম্পন্ন করা অসম্ভব হবে। কারণ অব্যবস্থাপনা ও দুর্ভোগের কারণ ঘটলেও অভিযোগ করে প্রতিকার পাবেন না হাজীরা।
সরকারিভাবে যাওয়া হাজীরা সৌদি আরবে নিজেরাই খাবারের ব্যবস্থা করেন। বেসরকারিভাবে যাওয়া হাজীদের খাবার সরবরাহ করা হয় এজেন্সি থেকে। এজেন্সির খাবার নিয়ে একসময় অনেক অভিযোগ ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে হাজীদের মিনায় অবস্থানকালে সৌদি মোয়াল্লেমরা খাবার সরবরাহ করেন। তাদের খাবার খেয়ে হাজীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি বাংলাদেশের এজেন্সির মালিকদের। সৌদি সরকার এ বছর নিয়ম করেছে, আগামী হজের পুরো সময় অর্থাৎ- ৩৫ থেকে ৪০ দিন হাজীদের খাবার সরবরাহ করবে সৌদি কোম্পানি। ফলে অনেকের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছে।
প্রতি বছর ৯ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ এই পাঁচ দিন মাত্র হজের কার্যক্রম করতে হয়। মদিনায় রাসূল সা:-এর রওজা জিয়ারতে আরো পাঁচ দিন এবং যাওয়া-আসা দিয়ে আরো পাঁচ দিন অর্থাৎ- মোট ১৫ দিন হলে খুব ভালোভাবে পবিত্র হজ সম্পন্ন করা সম্ভব। অথচ বাংলাদেশী হাজীদের সব মিলিয়ে সৌদি আরবে থাকতে হয় ৩৫ থেকে ৪০ দিন। এতে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। এরও পেছনে আছে বাংলাদেশ বিমানের পরিবহন সক্ষমতার অভাব।
বিমানের ব্যর্থতার দায় হাজীদের বহন করতে হচ্ছে বছরের পর বছর। অবিলম্বে এ অবস্থার অবসান দরকার।