সাম্প্রতিককালের ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা নিয়ে আজকাল বেশ আলোচনা শোনা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শক্তির প্রাধান্য দিয়ে সারা বিশ্বকে শাসন করে এলেও ইরানের সাথে যুদ্ধে দেশটিকে নাকানিচুবানি খেতে হয়েছে। পক্ষান্তরে ইরানের সাহসিকতা, কৌশল ও প্রযুক্তিগত সাফল্য দেশটির ইমেজ আকাশচুম্বী করেছে। এরূপ পরিস্থিতিতে এখন বিশ্বব্যাপী আলোচনা, লেখালেখি ও বিশ্লেষণ চলছে এ মর্মে যে, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক প্রভাব কী ক্ষয়িষ্ণু?
বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠান ব্রিজওয়াটার অ্যাসোসিয়েটের কোচেয়ারম্যান রে ডেলিও ২০২১ সালে একটি বই লিখেছেন, যা এসময়ে বেশ প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছি। তার লিখিত গ্রন্থটির নাম Principles of Declining With The Changing World: Why Nations Succeed and Fail. প্রকাশ করেছে ঝরসড়হ ্ ঝপযঁংঃবৎ. অন্যতম বেস্ট সেলার বইটি বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণে সহায়ক হতে পারে। রে ডেলিও মনে করেন, বিশ্বে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনগুলো দৈবচক্রে ঘটে এটা মনে করার কারণ নেই। তিনি বিশ্বের পাঁচটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের বিগত ৫০০ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করে এরূপ উপসংহারে পৌঁছেছেন, একটি বৃহৎ চক্রের আবর্তনে বড় ধরনের পরিবর্তনগুলো ঘটে থাকে।
তিনি মনে করেন, প্রধানত পাঁচটি কারণে কোনো একটি রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে থাকে। কারণগুলো হচ্ছে এক. শক্তিশালী শিক্ষাব্যবস্থা ও উৎপাদনশীলতা; দুই. উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি; তিন. প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি; চার. আর্থিক সক্ষমতা ও ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাব; এবং পাঁচ. সামরিক শক্তি ও টেকসই প্রতিষ্ঠান। তার মতে, কোনো রাষ্ট্র যখন এসব শক্তি অর্জন করে- তখন তার সম্পদ ও প্রভাব তাকে শীর্ষে পৌঁছে দেয়। এর ফলে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সাথে সাথে ঋণও বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে তার মুদ্রার গুরুত্বও বেড়ে যায়। এরূপ সাফল্য অর্জন হঠাৎ করে আসে না। এ জন্য বছরের পর বছর এমনকি শত বছরও অতিক্রম করতে হয়। এরপর পতনের লক্ষণ ক্রমান্বয়ে প্রতিভাত হতে থাকে।
একটি রাষ্ট্র যখন শীর্ষে পৌঁছে ঋণগ্রহণ বাড়াতে থাকে, সাথে সাথে তার দেনাও বাড়তে থাকে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সমাজে সম্পদ বৈষম্যও বাড়তে থাকে। ফলে রাজনৈতিক বিভাজনও বৃদ্ধি পেতে থাকে। দায়-দেনার কারণে দেশটি বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাতে থাকে। এটা দেখে প্রতিযোগী বা প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিও তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করে। এর মানে হচ্ছে, শক্তিমান রাষ্ট্রটির বিভিন্ন দুর্বলতা যখন প্রতিযোগীর কাছে ধরা পড়ে; তখন তাকে আরো চাপে ফেলতে নানারকম কৌশল ও জাল বিস্তৃত করা হতে থাকে। আস্তে আস্তে বৈশ্বিক নেতৃত্বে পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে পড়ে। একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার পদধ্বনি প্রবল হতে থাকে। লেখক যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, চীন ও নেদারল্যান্ডসের কয়েক শ’ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনায় যা পেয়েছেন তার সংক্ষিপ্তসার হচ্ছে, ‘একটি রাষ্ট্র তখনই সফল হয় যখন তার শিক্ষা, উদ্ভাবন, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে; অপর দিকে যখন তার ঋণের পরিমাণ, সম্পদের বৈষম্য ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন তার শক্তিকে দুর্বল করতে থাকে তখন তার পতনের ধারা শুরু হয়ে যায়।’
এরূপ প্রেক্ষাপটে বিশ্বের একক শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা যাক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানে পরমাণু বোমা নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে যুদ্ধে জয়লাভ করে মিত্রশক্তি। এরপর দেশটি তর তর করে বিশ্ব মোড়লে পরিণত হয়। তার প্রতিরক্ষা শক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা তাকে সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশে পরিণত করে। তার মুদ্রা ডলার প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। ঋণগ্রহণের ক্ষমতা, বিশ্ব বাণিজ্যে আধিপত্য তাকে আরো এগিয়ে দেয়। বিশ্বযুদ্ধে দেশটির কোনো ক্ষতি হয়নি। কারণ তাকে কেউ ছুঁতে পারেনি। অন্য দিকে ইউরোপের দেশগুলো যুদ্ধবিধ্বস্ত হয়ে নাজুক অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে। তারা নিজেদের পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে।
ডেলিওর মতে, উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান যখন একটি রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে, তা তাকে ক্রমান্বয়ে কিছু নেতিবাচক দিকে ঠেলে দেয়। সেগুলো হচ্ছে ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, সমাজে সম্পদের বৈষম্য বৃদ্ধি, রাজনৈতিক বিভাজন সম্প্রসারণ, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ক্রমহ্রাস এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শত্রুর সংখ্যা বৃদ্ধি। লেখক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ এখন দৃশ্যমান; যার কারণে এটা বলা যেতে পারে, দেশটি ‘বৃহৎ চক্রাবর্তে’ পতিত হয়েছে। এখন আমরা একটি অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি, কোনো দেশই স্থায়ীভাবে প্রভাব ও নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারে না। প্রাকৃতিক নিয়মে অভ্যন্তরীণ ও বাইরের বিভিন্ন চাপে পতনের গহ্বরে হারিয়ে যেতে হয়।
ডেলিও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীনের উত্থানের বিষয়টিও পর্যালোচনা করেছেন। চীন কিভাবে একটি দুর্বল অর্থনীতি থেকে নিজেদের বিশ্বে একটি সবল প্রতিযোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি চীনের আধুনিক ইতিহাস পরীক্ষা করে দেখেছেন, কিভাবে দেশটি অস্থিতিশীলতা ও বিদেশ নির্ভরতা থেকে অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে দ্রুত অগ্রগতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তার মতে, চীনের উত্থান ও অগ্রগতির কারণগুলো হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিনিয়োগ, শিল্পে অগ্রগতি, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার। ‘বৃহৎ চক্রের আবর্তনে’ একটি দেশ কিভাবে অগ্রসর হতে পারে তার সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে চীন। ডেলিও অবশ্য এরূপ উপসংহারে উপনীত হননি যে, চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে বা যাচ্ছে। তবে চীন যে, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বিধানে একটি সিদ্ধান্তগ্রহণকারী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
আমরা যদি ইতিহাসের আরেকটু গভীরে যাই তাহলে বিশিষ্ট পণ্ডিত ও দার্শনিকদের অভিমত দেখতে পারি। সমাজবিজ্ঞানের জনক ইবনে খলদুন বলেছেন, কোনো সভ্যতার পতন নিছক একটি ঘটনা নয়; বরং সে সমাজের সামাজিক বিভাজন, সমস্যা ক্রমে জমে ওঠা এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতা ও পরিবেশের সাথে খাপখাওয়ানোর ব্যর্থতা একটি সভ্যতার পতন ডেকে আনে। তিনি তার উদ্ভাবিত ‘আসাবিয়া’ (সামাজিক বন্ধন) তত্ত্বের আলোকে বলেছেন, সামাজিক বন্ধন একটি রাষ্ট্রের শক্তি ও পতনের লক্ষণ বলে দেয়। তিনি বলেছেন, অবিচার, নির্যাতন ও সামাজিক সংহতির অভাব রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে।
একইভাবে আরো অনেক পণ্ডিত ও দার্শনিক একটি রাষ্ট্রের পতনের বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেছেন। প্লাটোর মতে, ভারসাম্যহীনতা ও অতিরঞ্জন রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক। এরিস্টটল মনে করেন, বৈষম্য ও সামাজিক স্বার্থের ওপর ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্য পেলে সে রাষ্ট্র টেকসই হয় না। মন্টেস্কুর মতে, দুর্নীতি রাষ্ট্রের মূলনীতিকে খর্ব করে। টয়েনবীর মতে, যে রাষ্ট্র চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারে না, সে রাষ্ট্র টিকতে পারে না। উইল ডুরান্টের মনে করেন, নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিপর্যয় রাষ্ট্রীয় বিপর্যয় ডেকে আনে। মেকিয়াভ্যালির মতে, দুর্নীতি ও আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা রাষ্ট্রের পতনের কারণ হতে পারে। কনফুসিয়াসের মতে, জনগণের আস্থা হারালে সে সরকার বা রাষ্ট্র টিকতে পারে না।
আমরা যদি পেছনের দিকে বেশি না গিয়ে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই, স্নায়ুযুদ্ধের পর থেকে দেশটির বিশ্বব্যাপী প্রভাব কমতে শুরু করেছে। অবশ্য পণ্ডিতরা এটা সরাসরি এখনো বলতে শুরু করেননি যে, বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে। তারা এটা বলতে চান, বিশ্বে একক আধিপত্য আর থাকছে না; বরং এটা বলা যেতে পারে যে, বহুপক্ষীয় শক্তির আবির্ভাব হচ্ছে।
তবে কতগুলো বিষয় লক্ষ করা যেতে পারে যাতে মনে হওয়াই স্বাভাবিক, যুক্তরাষ্ট্র ক্রমান্বয়ে প্রভাব হারাচ্ছে। যেমন- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে যুক্তরাষ্ট্র ছিল বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি যার মোট জাতীয় আয় ছিল বিশ্বের মোট জিডিপির ৫০ শতাংশ। চীন ও জাপানের অর্থনৈতিক উত্থানের পরে তার সে অবস্থা এখন আর নেই। চীন ম্যানুফ্যাকচারিং ও বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। ডলারের রিজার্ভ বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো প্রভাবশালী হওয়া সত্ত্বেও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ পলিসি বহু উন্নয়নশীল দেশকে তাদের সাথে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুসংবাদ নয়। চীন টেলিযোগাযোগ, ইলেকট্রিক যানবাহন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে এতটা এগিয়ে গেছে, তার সাথে কেউ পাল্লা দিতে পারছে না। সামরিক শক্তির ক্ষেত্রেও চীনকে আর উপেক্ষা করা যাচ্ছে না। যদিও সামরিক শক্তির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সবার চেয়ে এগিয়ে আছে, তথাপি সাম্প্রতিক ঘটনাবলী প্রমাণ করে, কেবল সামরিক শক্তি থাকলেই সবক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়া যায় না। আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া ও ইরানে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করেও যুক্তরাষ্ট্র নিট সাফল্য পায়নি। এতে প্রমাণিত হয়, দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে কেবলমাত্র সামরিক শক্তি যথেষ্ট নয়।
এক সময় বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঋণদানে একমাত্র প্রভাবশালী আর্থিক সংস্থা থাকলেও পরবর্তীতে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, আফ্রিকান উন্নয়ন সংস্থা, ব্রিকস ইত্যাদি আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান বিকল্প আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। যদিও ন্যাটোর মতো সামরিক জোটের নেতৃত্বে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তবে প্যালেস্টাইন ও ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে অন্ধভাবে সমর্থন করা থেকে কিছু প্রভাবশালী রাষ্ট্র বিরত থাকছে। ফলে ন্যাটো আর আগের মতো প্রভাব বজায় রাখতে পারছে না। পররাষ্ট্র নীতিতে এখন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বড় বিভাজন লক্ষণীয়। কোনো কোনো পণ্ডিত মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অগ্রসর সেমি কন্ডাক্টর, বায়ো-টেকনোলজি, শিক্ষা ও গবেষণা, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবনে বিশ্বে সবচেয়ে প্রভাবশালী।
জোসেফ এস নেই জুনিয়র মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃতপক্ষে পতনের দিকে যাচ্ছে এটা বলার সময় এখনো আসেনি, তবে তার পাশাপাশি আরো কিছু দেশ বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে। গ্রাহাম এলিসন মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে চীন একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে; এর ফলে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে সঙ্ঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে। তার মানে এটা নয় যে, যুক্তরাষ্ট্র শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রায় একইভাবে ফরিদ জাকারিয়া মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অধঃপতনের বিষয়টি আপেক্ষিক। বরং বলা যায়, আরো কিছু শক্তির উত্থান ঘটছে। রে ডেলিওয়ের কথা আগেই উল্লেখ করেছি।
উপসংহারে এটা বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন বিশ্বে যে একক শক্তির প্রাধান্য বজায় রেখেছিল তা এখন সঙ্কুচিত হচ্ছে। কারণ পাশাপাশি চীন ও আরো কিছু শক্তির উত্থান ঘটছে, যা বিশ্বকে বহুশক্তির ক্রীড়াক্ষেত্রে পরিণত করতে যাচ্ছে।
লেখক : গবেষক ও সাবেক সচিব