০১ পালিয়ে প্রাণ বাঁচানোর উদাহরণ সৃষ্টিকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উসকানিমূলক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ৩২ নম্বরের বাড়িসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ ও সম্পৃক্ত নেতাদের বাড়িঘর ভাঙচুর সমকালীন রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এর সুযোগে ফ্যাসিবাদের সাথে সম্পৃক্ত গুটিয়ে যাওয়া তথাকথিত বৃদ্ধিজীবীরা আকাশ-বাতাস ফাটিয়ে বিবৃতি দিচ্ছেন; সব গেল সব গেল রব তুলে। অথচ পরাজিত শক্তি যখন একের পর এক উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন তাদের নীরবতা সন্দেহের উদ্রেক করে বৈকি। এসব তথাকথিত বিশিষ্ট বৃদ্ধিজীবীর বিবৃতি কতটুকু মানবতার সপক্ষে, সুবিচারের পক্ষে তা নিয়ে যেমন বিতর্ক করা যায় তেমনি গত ১৬ বছরে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, খুনসহ সবধরনের প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার যে মহোৎসব দেশবাসীসহ বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এসব বুদ্ধিজীবীর ভূমিকার মূল্যায়নও করা প্রয়োজন। অবস্থা যা-ই হোক না কেন, যারা এই কর্মকাণ্ড সৃষ্টির সুড়সুড়ি দিয়েছেন তাদেরও কৈফিয়তের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করাটা ন্যায়বিচারের দাবিÑ এটা ভুলে যাওয়া সুবিচারের পরিপন্থী। অপর দিকে যেখানে বসে যাদের সাহায্য ও সহযোগিতায় এ ধরনের উসকানি দেয়া হচ্ছে তাদের ব্যাপারে নীরবতা প্রশ্ন তৈরি করে বৈকি। এ কথা ঠিক, যেকোনো ধরনের মব জাস্টিস গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। সুবিচার ও সদাচারের অন্তরায়। সভ্যতার কলঙ্ক। দেশে সুষ্ঠু আইনের শাসনের অভাবের অনুপস্থিতির প্রকাশ। যারা এ ব্যাপারে গণতন্ত্রের নামে, সুবিচারের নামে, ফ্যাসিবাদ উৎখাতের নামে এ ধরনের কাজে উৎসাহ জোগান তাদের অবশ্যই মনে রাখা দরকার, এ ধরনের ঘটনা পতিত ফ্যাসিবাদের দোসরদের জন্য সুযোগ তৈরির পথ প্রশস্ত করবে। ভবিষ্যতে আরো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করে দেবে। একই সাথে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর এ ব্যাপারে নিশ্চুপ ভূমিকা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনাকে আরো উসকে দেবে নিঃসন্দেহে। ০২ সপ্তাহখানেক আগে উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরে যেতে হয়েছিল। প্রয়োজনের তাগিদে সয়াবিন তেল কিনতে গিয়ে দেখি বাজারে ভোজ্যতেল নেই। ১৬৫ টাকার এক লিটার সয়াবিন তেল হঠাৎই অদৃশ্য। অনেক খোঁজাখুঁজি করে এক দোকানদার প্রথমে নাই বললেও ১৯০ টাকার বিনিময়ে দিতে রাজি হলেন। সচরাচর মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তরাই এক লিটার ওজনের তেল কেনেন। রমজানের পূর্বক্ষণে বাজার থেকে তেল উধাও করে দিয়ে লিটার-প্রতি ৩০ টাকা লাভালাভের সিন্ডিকেটের ব্যাপারে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা জনগণের নাভিশ্বাস তৈরি করবে নিঃসন্দেহে। এই সিন্ডিকেটই মাত্র কিছু দিন আগে সরকার ও জনগণকে জিম্মি করে তেলের দাম বাড়িয়েছিল। জনগণের এ দুর্ভোগে জাতীয় নেতাদের উদাসীনতাকেও কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। প্রয়োজনে এসব সিন্ডিকেটের হোতাদের কঠোর শাস্তির দাবিতে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা এবং সুশীল সমাজের রুখে দাঁড়ানো দরকার। প্রয়োজন ক্যাবের কর্মতৎপরতা ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা। প্রয়োজন এসব ব্যবসায়ীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সিলগালা করা এবং তাদেরকে আইনের হাতে সোপর্দ করা। যেন এ ধরনের অনৈতিক কাজ করার সাহস কেউ না করে। এক দিন পর রমজান। এখনই সিন্ডিকেটের হোতাদের ঠেকানো না গেলে রমজানে এরা দেশবাসীকে অসহায় অবস্থায় ঠেলে দিয়ে সরকারের প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি করবে নিঃসন্দেহে। এ অবস্থা ফ্যাসিবাদের দোসরদের আত্মপ্রকাশের আরো একটি সুযোগ হয়ে দেখা দেবে। ০৩ আরো একটি ব্যাপার আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তা হলো যততত্র নার্সিং ইনস্টিটিউট ও নার্সিং কলেজ। এমন সব জায়গায় নার্সিং কলেজ বা ইনস্টিটিউটের নামফলকের সগৌরব অবস্থান যার আশপাশে কোনো হাসপাতাল নেই। নেই মানসম্পন্ন ক্লি¬নিক। দেশে প্রশিক্ষিত মানসম্পন্ন নার্সের প্রচণ্ড চাহিদা। এই চাহিদাকে পুঁজি করে একশ্রেণীর ব্যক্তি নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটের ব্যবসায় খুলে বসেছে। বিশেষ করে গ্রাম-গঞ্জের মেয়েরা এই ব্যবসার প্রধান টার্গেট। মা-বাবা তাদের সহায় সম্পদ বিক্রি করে তাদের মেয়েদের নার্সিং শেখার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করছেন। যথোপযুক্ত সুযোগ-সুবিধাহীন এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যারা বেরোবেন তাদের হাতে দেশের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা কতটুকু নিরাপদ? যারা এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দিচ্ছেন তাদেরকে জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় এনে এসব প্রতিষ্ঠানের যথোপযুক্ত মূল্যায়নের মাধ্যমে অনুমোদন দেয়ার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সবিনয় অনুরোধ রইল। প্রশিক্ষিত নার্সের চাহিদা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও রয়েছে এর প্রচুর চাহিদা। প্রশিক্ষিত নার্সদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করলে তা জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেবে। যত্রতত্র নার্সিং কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের অনুমোদন না দিয়ে যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণ সুবিধার পরিপ্রেক্ষিতে অনুমোদন দেয়া উচিত।
লেখক : চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ shah.b.islam@gmail.com
প্রাসঙ্গিক বিষয়
প্রশিক্ষিত নার্সের চাহিদা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও রয়েছে এর প্রচুর চাহিদা। প্রশিক্ষিত নার্সদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করলে তা জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেবে। যত্রতত্র নার্সিং কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের অনুমোদন না দিয়ে যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণ সুবিধার পরিপ্রেক্ষিতে অনুমোদন দেয়া উচিত