উপসম্পাদকীয়
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরশীল থাকার ব্যবস্থাটা অতি গুরুদণ্ড দিয়ে বঞ্চিত করা হচ্ছে কি না। ছয় শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রেক্ষাপট তদন্ত করে সেখানকার একটি দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে লাইসেন্স বাতিলের মতো সিদ্ধান্তটি স্বাগত জানানোর মতো হলেও বিষয়টি বেসরকারি খাতের একটি হাসপাতালের জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখা এবং সরকারি হাসপাতালের বেহাল অবস্থা এবং বেসরকারি খাতের অপরাপর হাসপাতালে বাণিজ্যিক ব্যবসায়-ভারাক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিহীনতা ও ভূরি ভূরি দায়িত্বহীনতার বিবরে কতখানি সমীচীন তা বলা মুশকিল
আগ্রাসী ভূমিকা থেকে সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র : সাফল্য ইরানের
চুক্তি অনুযায়ী, ইরান সবচেয়ে লাভবান হয়েছে। এত দিন দু’টি দেশের মধ্যে সমঝোতার কোনো আনুষ্ঠানিক কাঠামো ছিল না। এখন থেকে ইরান নির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় আলোচনা চালাতে পারবে। ইরান আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের যে সুবিধা পাবে; তা তাদের দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় সুবিধা দেবে। দেশটি যদি নির্বিঘ্নে তেল ও অন্যান্য পণ্য রফতানি করতে পারে, তাহলে অর্থনৈতিকভাবে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে
জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন
সাধারণ মানুষ বাজেটের ভালো-মন্দ বিচার করবে তাদের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে। তবে সব সমস্যার সুরাহা এক বাজেটে এবং এক অর্থবছরে হওয়ার নয়। অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এবারের বাজেট তৈরি করা হয়েছে। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, ঘোষিত বাজেটে জনকল্যাণের চিন্তা সবিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
কালো অতীত ও আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রত্যাশা
জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের বারবার এই চিরন্তন সত্যই মনে করিয়ে দেয়, ক্ষমতার দম্ভ ও বন্দুকের নল দিয়ে সত্যকে হয়তো সাময়িকভাবে চেপে রাখা যায়; কিন্তু তাকে কখনো চিরতরে পরাজিত করা যায় না। বাংলাদেশ আজ এক নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক যাত্রার দ্বারপ্রান্তে উপনীত। ভবিষ্যতের দীর্ঘ ও জটিল যাত্রাপথে স্বাধীন, নির্ভীক ও বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যমের উপস্থিতি অপরিহার্য। কারণ গণতন্ত্রের প্রকৃত প্রাণশক্তি শুধু নির্দিষ্ট সময় পরপর ব্যালট বাক্সে ভোট দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তা নিহিত রয়েছে প্রতিদিন
শিক্ষা সংস্কার, কর্মমুখিতা : বাজেটের করণীয়
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা সময়োপযোগী ও কার্যকর করতে হলে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমত, পাঠ্যক্রমকে কর্মবাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সামাজিক মর্যাদা দিতে হবে। তৃতীয়ত, ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। চতুর্থত, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পঞ্চমত, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধকে শিক্ষার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে
আজকের সরকারি ও বিরোধী দলও জনতাকে আশ্বাস দিয়েছিল পরিবর্তনের। অথচ ক্ষমতার মসনদে বসার পরই দেখা যাচ্ছে, যারাই ক্ষমতায় যাচ্ছেন তারাই রাষ্ট্রকে নিজ সম্পদ ভাবছেন। রাষ্ট্রের সংস্কারের কথা ভাবছেন না। জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বেমালুম ভুলে বসে আছেন। সংসদে একে অপরের চরিত্র হননের মহান (?) চেষ্টায় ব্যস্ত জনপ্রতিনিধিরা। এর আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে গত ১৭ বছরের অন্যায়, দুর্নীতি ও তার বিচারের কথা। সব দেখে আজ মনে হচ্ছে- বাংলাদেশে আজ কবির সেই বাণীই সত্য হয়ে উঠেছে, ‘প্রতিকারহীন শক্তের অপরাধে, বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।’