বাংলাদেশে জালের মতো নদ-নদী ছড়িয়ে রয়েছে। নদীর কারণে সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়। দেখা যায় নদীর দুই পাড়ে রাস্তা আছে, একটি সেতুর অভাবে এলাকবাসী ভুগছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন সঙ্কট বহু গ্রামে দেখা যায়। আবার দেখা যায় নদীর ওপর সেতু তৈরি হয়েছে কিন্তু সংযোগ সড়ক নেই। সেই ক্ষেত্রে নির্মিত সেতু যোগাযোগের জন্য কোনো উপকারে আসে না। হাসিনার ফ্যাসিবাদী আমলে এমন বহু সেতু নির্মিত হয়েছে যেখানে রাস্তার সংযোগ না থাকায় তা জনসাধারণের কোনো কাজে আসেনি।

একটি সহযোগী দৈনিকের প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলা সদরের পুরাতন বাজারসংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত সেতুটি সংযোগ সড়কের অভাবে তিন বছর ধরে অকেজো। এটি স্থানীয় জনগণের যাতায়াতে কোনো কাজে আসছে না।

প্রকৌশল অধিদফতরের আওতায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালের শেষের দিকে এ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে ২০২৩ সালের জুন মাসে শেষ হয়। দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। মাটির রাস্তা পাড়ি দিয়ে সেতুতে উঠতে হয়। স্থানীয় বাজারের মালামাল পরিবহন করা যাচ্ছে না। ভোগান্তিতে পড়েছেন বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতাসহ হাজারো মানুষ। স্কুলগামী শিশু ও শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। দুর্বল অসুস্থ ও বৃদ্ধরা কারো সাহায্য ছাড়া সেতুতে উঠতে পারছেন না। সেতুর দুই পাড়েই রয়েছে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি বেসরকারি কার্যালয়।

সেতু নির্মাণের পাশাপাশি সংযোগ সড়ক সম্পন্ন করার কথা ছিল। ঠিকাদার সড়ক ও খালের মাঝ বরাবর মাটি অপসারণ করেনি। হাসিনার সময়ে প্রভাবশালী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস করেনি। ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর এই ঠিকাদার পালিয়ে যায়।

কাঁচাবাজারে মালামাল নিয়ে দূরের পথ ঘুরে কষ্ট করে আসতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে। উভয় পাশে রয়েছে পিচঢালা পাকা রাস্তা। সংযোগ সড়ক না থাকায় ক্রেতারা বাজার করে রিকশা বা ভ্যানে বাড়ি যেতে পারছেন না। চলাচলের অনুপযোগী পুরনো সেতু ভেঙে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি নির্মাণের শুরু থেকেও দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন এলাকাবাসী। দক্ষিণ পাড়ে কাঁচাবাজারসহ উভয় পাড়ে মার্কেট থাকায় সেতুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পারাপার হচ্ছেন।

রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে আশা করা হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণ হবে। তারা ঠিকাদারের সাথে কথা বলেছেন। তিনি দু-এক দিনের মধ্যেই সড়ক নির্মাণের জন্য মালামাল পাঠাবেন। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও শিশুরা বিপাকে। কারো কাজে আসছে না সেতুটি। কেউ সুফল পাচ্ছেন না। শুরুতেই সংযোগ সড়ক করার কথা ছিল। কিন্তু সাড়ে তিন বছরেও সংযোগ সড়ক হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গুরুত্বসহকারে বিষয়টি দেখলে আশা করা যায় অচিরেই অসম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে। এলাকাবাসী সঙ্কট থেকে রেহাই পাবে।