দুর্গাপুরের আড়াই লাখ মানুষসহ আশপাশের আরো তিন উপজেলার চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন রোগীর ভিড় থাকে এই হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসক কম, শয্যা সংখ্যা ও জনবল, এক্স-রে, ইসিজি মেশিন- যন্ত্রপাতিসহ নানাবিধ সঙ্কটে হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চিকিৎসাপ্রত্যাশীরা। শুধু তাই নয়, ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে হাসপাতাল ভবনও। ফাটল ধরেছে বিভিন্ন স্থানে ও মেঝেতে। খসে পড়ছে পলেস্তারা। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। ইতোমধ্যে ফাটলের কারণে বন্ধ হয়ে আছে ভিআইপি কেবিন। একটি সহযোগী দৈনিকের দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) সংবাদদাতার প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
১৯৮১ সালে নির্মাণ করা হয় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। পরে রোগীর চাপ সামলাতে ২০০৯ সালে বাড়িয়ে করা হয় ৫০ শয্যা। কিন্তু এতেও পর্যাপ্ত হয়নি, কারণ প্রতিদিন ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ৬০-৭০ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। কোনো কোনো সময় শতাধিকও হয়। সেই হিসাবে প্রয়োজন ১০০ শয্যার। জরুরি ও বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ রোগী চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে চলমান চিকিৎসক ও কর্মচারীসহ নানা সঙ্কটে সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
এই হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবমিলিয়ে পদ রয়েছে ১৬৭টি। কর্মরত আছেন ৯০ জন। দীর্ঘদিন ধরে ৭৭টি পদ খালি। তা ছাড়াও জরুরি সেবা প্রদানের অ্যাম্বুলেন্স চালক সঙ্কটে সেবা বন্ধ। নষ্ট হয়ে আছে হাসপাতালের জেনারেটর। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, ইসিজি মেশিনসহ আরো অনেক যন্ত্রপাতির সঙ্কট রয়েছে। এ দিকে জনবল সঙ্কটে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে প্রয়োজনে কোনো কোনো চিকিৎসককে দিনে-রাতে কর্মঘণ্টার অনেক বেশি সময় হাসপাতালে থাকতে হয়। এই পরিস্থিতিতেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকরা।
গ্রামীণ চিকিৎসাসেবার কী করুণ অবস্থা তার একটি দৃষ্টান্ত দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অন্যান্য হাসপাতালেরও যে খুব ভালো অবস্থা; তা কিন্তু নয়। চিকিৎসাসেবার মতো জনগণের মৌলিক অধিকার প্রাপ্তিতে সরকারের উদাসীনতা আমাদের বরাবর হতাশ করছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দায়িত্ব এসব সমস্যা দেখা। কিন্তু প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে?
বাস্তবে সরকারি সেবাপ্রাপ্তিতে মানুষের অসন্তোষের শেষ নেই। আর চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিতে এ অসন্তোষ আরো তীব্রতর। মানুষ সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করান। বিত্তবানরা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে পারলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠী এক্ষেত্রে বড় অসহায়।
সরকারি চিকিৎসা সেবাবঞ্চিত করে অসহায়, দরিদ্র মানুষকে কষ্ট দেয়া তাদের মৌলিক অধিকার হরণের শামিল। সঙ্গতকারণে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে গ্রামীণ চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিতে সঙ্কটগুলো দূর করতে হবে কোনো ওজর-আপত্তি ছাড়াই। আমরা আশা করি, দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।