শিশুদের স্কুল ফিডিং ধারণাটি দেশে দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঝরে পড়া রোধ, গরিব অসহায় শিশুদের আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদানে এই ব্যবস্থা। বাংলাদেশেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল নামে এটি চালু হয়েছে। এর খাবারের মান ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশন নিয়ে কথা উঠেছে। নজরদারির অভাবে নিম্নমানের খাবার গছিয়ে দেয়ার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাবার ক্ষতির কারণ হতে পারে। মিড ডে মিলে সরবরাহ করা বনরুটিতে আস্ত ব্লেড পাওয়ার খবর মিলেছে। তদন্ত করে এর সত্যতা নিরূপণ করা না হলেও সারা দেশে মিড ডে মিল সরবরাহ করার যে বিপুল কার্যক্রম চলছে; তা নিয়ে সতর্কতা প্রয়োজন। শিক্ষার উন্নয়ন করতে গিয়ে যেন শিশুদের স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর এমন কিছু হয়ে না যায়।
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভায় হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীর এক ছাত্রীর বরাদ্দ খাদ্যে ব্লেডটি পাওয়া যায়। দুপুরে টিফিন দেয়া হলে ওই ছাত্রী বনরুটির মধ্যে আস্ত ব্লেড পায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এতে ক্ষুব্ধ হন। পরের দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্কুল পরিদর্শন করে এর সত্যতা পান। বিষয়টি তদন্ত করতে একজন চিকিৎসক, সেনেটারি কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দেবেন।
সংবাদমাধ্যমে ব্লেডসমেত বনরুটির ছবি প্রকাশ পেয়েছে। খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি রুটিতে ব্লেড থাকার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রুটি তৈরি করেন। প্যাকটের ভেতরে মেটাল থাকার কোনো সুযোগ নেই। যদি থাকেও তাতে পোড়া দাগ থাকবে। প্যাকেজিং করার সময় প্রতিটি রুটি মেটাল ডিটেকটর দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। তাই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হচ্ছে এটি তাদের সরবরাহ রুটি কি না তা নিয়ে। এ অবস্থায় সত্যতা নিরূপণে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ঘটনাটি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির দিক থেকে অত্যন্ত গুরুতর। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে এমনটা ঘটে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা আদৌ শিশুদের খাদ্য সরবরাহ করতে পারবে কি না তা নতুন করে ভাবতে হবে। অন্য কারো গাফিলতি কিংবা অন্য কোনো অনিয়ম দুর্নীতির সাথে রুটিতে ব্লেড থাকার সম্পর্ক আছে কি না; সেটা খুঁজে বের করতে হবে। ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য ষড়যন্ত্র করে অন্য কেউ তা ঘটাতে পারে। এমনটা হয়ে থাকলে তা আরো বড় অপরাধ। যারা এমনটা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
দেশের প্রায় ২০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০ লাখের মতো শিক্ষার্থীকে মিড ডে মিলের আওতায় আনা হয়েছে। মাথাপিছু ৪০ টাকার মতো খরচ হয়। এতে ডিম, পাউরুটি, দুধ, বিস্কুট, কলা ও মওসুমি ফলসহ পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করার নিয়ম রয়েছে। এটা বিশাল একটি প্রকল্প। শিশুদের খাদ্য সরবরাহের এ প্রকল্প অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সামান্য অসতর্কতা ও গাফিলতির কারণে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পুরো প্রক্রিয়ায় নিবিড় নজরদারি ও খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ জরুরি।