গত তিন মাসে দেশের সার্বিক রফতানি কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অন্য সব পণ্যের মতো তৈরী পোশাক রফতানিও কমেছে। পাশাপাশি কমেছে ক্রয়াদেশও। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) গত তিন মাসের পরিসংখ্যান মতে, পোশাকের রফতানি কমে দাঁড়ায় ৩১৭ কোটি ডলারে, যা গত বছরের আগস্টে ছিল ৩৩৩ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে পোশাকের রফতানি ১৭ কোটি ডলার কমে পরিমাণ দাঁড়ায় ২৮৪ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই মাসে ছিল ৩০১ কোটি ডলার। পোশাক রফতানি কমে ২৮ কোটি ডলার। রফতানি হয় ৩০২ কোটি ডলারের পোশাক, যা আগের বছরের একই মাসে ছিল ৩৩০ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরের চেয়ে অক্টোবর মাসে রফতানি আদেশ কম এসেছে ৩৯ কোটি ডলার।

একটি সহযোগী দৈনিকের খবরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান কার্যালয় ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ হিসাব উল্লেখ করে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বেড়েছে ১৩ শতাংশ। কিন্তু আগস্ট থেকে টানা তিন মাস রফতানি কমেছে। সর্বশেষ অক্টোবরে দেশের রফতানি আয় কমেছে ৭ শতাংশ। আমাদের প্রধান রফতানিপণ্য তৈরী পোশাকে কমার হার আরো বেশি। একই সাথে কমেছে ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ।

শিল্পপতি ব্যবসায়ীরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত পাল্টা শুল্ক আরোপ রফতানি কমে যাওয়ার মূল কারণ। আর পোশাক রফতানি কমে যাওয়ার কারণ চীন ও ভারতের আগ্রাসী রফতানি নীতি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অনেক বেশি শুল্কে চীন অনেক কম দামে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে পোশাক রফতানি করছে। ফলে সেখানে বাংলাদেশের রফতানি কমছে। ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বেড়েছে মাত্র ৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল প্রায় ১০ শতাংশ।

তৈরী পোশাকের ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ারও অন্যতম প্রধান কারণ মার্কিন শুল্ক নীতি। অস্বাভাবিক শুল্ক আরোপে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের দর বেড়ে গেছে। একই সাথে চাহিদা কমেছে ২৫-৩০ শতাংশ।

আমাদের জানা মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত শুল্কের কারণে চীন সে দেশে রফতানি করছে না, বাংলাদেশের রফতানিকারকরাও পিছিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু চীন সরে আসার পর শূন্যস্থান দখল করেছে ভিয়েতনাম। দেশটির ওপর মার্কিন শুল্ক বাংলাদেশের প্রায় সমান। তারা যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ পোশাক রফতানিকারক হতে পারলে বাংলাদেশ কেন পারছে না? এটিই আমাদের ভেবে দেখার বিষয়।

আমরা মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক একমাত্র কারণ নয়। আমাদের অপারগতার পেছনে নিশ্চয় অন্য কারণও বিদ্যমান রয়েছে। তা খতিয়ে দেখতে হবে পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের। সেই সাথে সরকারেরও সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক।

রফতানি সম্পর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমাদের দুর্বলতা অনেক ক্ষেত্রে রয়েছে। অন্যরা যখন কলেকৌশলে বাজার দখল করে; তখন আমরা কেবল নড়েচড়ে বসি। এ অবস্থা চলতে পারে না। উদ্যোক্তা ও সরকার উভয়কে পরিস্থিতি জেনে তা আমলে নিতে হবে। সেই সাথে তাৎক্ষণিকভাবে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।