দেশে আবার শুরু হয়েছে আগুন সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা। এক দিকে নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে কোনো দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হত্যার শিকার হচ্ছে দলীয় নেতাকর্মী। অন্য দিকে পতিত ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগও মরিয়া হয়ে উঠেছে নাশকতার মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে। সেই সাথে আছে সমাজবিরোধী অপরাধ চক্রের অপতৎপরতাও।
গত সোমবার পুরান ঢাকার জজকোর্ট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় সাইফ মামুন নামে এক সন্ত্রাসীকে। মঙ্গলবার গুলশানে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মোহাম্মদপুরে পাওয়া যায় নিহত ছাত্রদল নেতার লাশ। এর আগে চট্টগ্রামে নির্বাচনী জনসংযোগে অংশ নেয়া সারোয়ার হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হবে আজ বৃহস্পতিবার। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এ দিন ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি দিয়েছে। বর্তমান আগুন সন্ত্রাসের উৎস এই কর্মসূচি। তারা আবারো সেই হেলমেট বাহিনী, মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের মাঠে নামিয়েছে। নতুন করে শুরু করেছে মানুষ হত্যার পুরনো খেলা। রাজধানী ঢাকা, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ১০টি যানবাহনে আগুন দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) তদন্ত সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বরে বোমা ছোড়া হয়েছে। ময়মনসিংহে বাসে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে ঘুমন্ত চালককে।
রাজনৈতিক দলের নেতারাও অভিযোগ তুলেছেন, আওয়ামী লীগই আগুন সন্ত্রাসের উৎপাদক। তারাই সঙ্ঘাত সৃষ্টি করছে। তারা এ মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ অনুভব করছেন।
আমরা মনে করি, আওয়ামী লীগের উৎখাতের পর দেশে সন্ত্রাসের রাজনীতির দিন ফুরিয়েছে। নাশকতা করে হাসিনার বিচার রদ করা বা ভণ্ডুল করার অপচেষ্টা সফল হবে না। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুধু নয়, রাজনৈতিক দল এবং দেশের জনগণও এখন সতর্ক। তারা দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী জাহেলিয়াতের শাসন হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছে। কিভাবে সদলবলে ঝাঁপিয়ে পড়ে জনগণের সম্পদ নির্বিচারে লুটপাট ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে, দেশের প্রতিটি মানুষ তার সাক্ষী। এমন অবস্থায় সন্ত্রাস করে সুবিধা পাওয়া যাবে না। তবে জনমনে উদ্বেগ আছে। সাধারণ মানুষ নিরাপদ জীবন চায়। অপঘাতে জীবন হারাতে চায় না। এ জন্য সরকারকে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সরকার এরই মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার অভিযান চলছে। রাজধানীতে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। সশস্ত্রবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে।
তবে একটি বিষয় সরকারের বিবেচনায় রাখতে হবে। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে নাশকতা ঠেকানো একরকম অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা কার্যক্রম সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। নাশকতার আগে গোয়েন্দা তথ্য পেতে হবে। সেই অনুযায়ী ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সবচেয়ে ভালো হয়, জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারলে। সন্ত্রাসবিরোধী জনগণকে নিয়ে দেশের সর্বত্র জনপ্রতিরোধের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। স্থানীয় জনগণ জানে, তাদের এলাকায় সম্ভাব্য সন্ত্রাসী ও নাশকতাকারী কারা। তাদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তারাই সঠিক তথ্য দিতে পারে।